Skip to content
দ্রুত ডেলিভারি·COD·ঢাকায় পরের দিন·১০০% অথেনটিক

Sunscreen Guide

স্কিনকেয়ার করার পরও ব্রণ কমছে না? ৭টি কারণ ও সমাধান

ব্রণ কমছে না? স্কিনকেয়ার রুটিন ঠিক থাকার পরও ব্রণ হওয়ার ৭টি কারণ ও সহজ সমাধান জানুন। বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য কার্যকরী টিপস।

By Hasan Tarafder, Founder · Emart
·

স্কিনকেয়ার রুটিন মেনে চলছেন, ক্লিনজার-ময়েশ্চারাইজার সবই ঠিকঠাক— তবু ব্রণ কমছে না? এই হতাশা আর কতদিন টানবেন বলুন তো? রোজ আয়নায় তাকিয়ে সেই একই লাল দাগগুলো দেখে মন খারাপ হয়ে যায়, তাই না?

বিশ্বাস করুন, আপনি একা নন। ঢাকার গরমে ঘাম, ধুলা, এসি অফিসের শুষ্কতা— সব মিলিয়ে ব্রণ যেন একটা স্থায়ী অতিথি হয়ে বসেছে। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে? আজকে আমরা সেই কারণগুলো খুঁজে বের করব, যেগুলো হয়তো আপনার চোখ এড়িয়ে গেছে। আর হ্যাঁ, সমাধানও থাকবে— সহজ, কার্যকরী এবং বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য উপযোগী।

ব্রণ কেন হয়: সেবাম, পোরস আর ব্যাকটেরিয়ার গল্প

ব্রণ মূলত তিনটি জিনিসের খেলা: সেবাম (তেল), পোরস (লোমকূপ) আর ব্যাকটেরিয়া। আমাদের ত্বকের নিচে সেবাসিয়াস গ্ল্যান্ড থাকে, যেগুলো সেবাম তৈরি করে। এই সেবাম ত্বককে নরম রাখে, কিন্তু যখন বেশি তৈরি হয়, তখন পোরস বন্ধ হয়ে যায়। পোরস বন্ধ হলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া (বিশেষ করে P. acnes) জমা হয়, আর তখনই শুরু হয় ব্রণ।

বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এই সমস্যাটা আরও বেড়ে যায়। গরমে ঘাম, আর্দ্রতা, আর রিকশা-বাসের ধুলা— সব মিলিয়ে পোরস আরও সহজে বন্ধ হয়ে যায়। তাই শুধু স্কিনকেয়ার রুটিন নয়, বাইরের পরিবেশের প্রভাবও বুঝতে হবে।

রুটিন ঠিক থাকার পরও ব্রণ কমছে না যে ৭টি কারণে

স্কিনকেয়ার রুটিন মেনে চলছেন, তবু ব্রণ কমছে না? হতে পারে এই কারণগুলোর কোনো একটা আপনার ক্ষেত্রেও কাজ করছে:

  • প্রোডাক্টের কম্বিনেশন ভুল: অনেকেই ভাবেন, যত বেশি প্রোডাক্ট ব্যবহার করবেন, তত ভালো। কিন্তু সব প্রোডাক্ট একসাথে কাজ করে না। যেমন, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড আর রেটিনয়েড একসাথে ব্যবহার করলে ত্বক ইরিটেটেড হয়ে যেতে পারে।
  • মেকআপ বা সানস্ক্রিন ঠিকমতো ক্লিন না করা: রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মেকআপ বা সানস্ক্রিন পুরোপুরি ক্লিন না করলে পোরস বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে SPF 50 PA+++ এর মতো সানস্ক্রিনগুলো যদি ডাবল ক্লিনজিং না করেন, তাহলে ব্রণ বাড়বেই।
  • ময়েশ্চারাইজার স্কিপ করা: অনেকেই ভাবেন, তেলতেলে ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগানোর দরকার নেই। কিন্তু ময়েশ্চারাইজার না লাগালে ত্বক আরও বেশি সেবাম তৈরি করে, ফলে ব্রণ বাড়ে।
  • হাত দিয়ে মুখ ছোঁয়া: অফিসে কাজ করতে করতে, রিকশায় যেতে যেতে— আমরা অজান্তেই মুখে হাত দিই। এতে ব্যাকটেরিয়া আর ময়লা ত্বকে লেগে ব্রণ হয়।
  • খাবারের প্রভাব: অতিরিক্ত চিনি, দুধ বা ফাস্ট ফুড খেলে ব্রণ বাড়তে পারে। বাংলাদেশে চা-কফির সাথে মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে, যা ব্রণের জন্য দায়ী হতে পারে।
  • বালিশের কভার পরিষ্কার না করা: প্রতি রাতে আমরা ৬-৮ ঘণ্টা বালিশে মাথা রাখি। বালিশের কভার যদি নিয়মিত পরিষ্কার না করা হয়, তাহলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া জমে ব্রণ হয়।
  • স্ট্রেস ও ঘুমের অভাব: স্ট্রেস হরমোন (কর্টিসল) সেবাম উৎপাদন বাড়ায়। আর ঢাকার ট্রাফিক জ্যামে আটকে থেকে ঘুমের ঘাটতি হলে ত্বক আরো খারাপ হয়ে যায়।

ওভার-ক্লিনজিং ও হার্শ প্রোডাক্টের ফাঁদ

অনেকেই ভাবেন, ব্রণ কমাতে হলে ত্বককে যতটা সম্ভব শুকিয়ে ফেলতে হবে। তাই তারা হার্শ ক্লিনজার বা অ্যালকোহল বেসড প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন। কিন্তু এতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল উঠে যায়, ফলে ত্বক আরও বেশি সেবাম তৈরি করে। এটাকে বলে “রিবাউন্ড ইফেক্ট”।

আবার, দিনে ৩-৪ বার মুখ ধোয়া বা স্ক্রাব ব্যবহার করাও ক্ষতিকর। এতে ত্বকের প্রোটেকটিভ ব্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যায়, আর ব্রণ আরও বেড়ে যায়। তাই ক্লিনজার বেছে নিন মাইল্ড, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা নিয়াসিনামাইড যুক্ত। আর দিনে দুবারের বেশি মুখ ধোবেন না।

কোন উপাদানগুলো আসলেই কাজ করে

ব্রণ কমাতে কিছু উপাদান বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। এগুলো আপনার রুটিনে রাখতে পারেন:

  • স্যালিসাইলিক অ্যাসিড: এটি ত্বকের গভীরে গিয়ে পোরস পরিষ্কার করে। ১-২% কনসেন্ট্রেশনের প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন।
  • নিয়াসিনামাইড: এটি ত্বকের লালচেভাব কমায়, সেবাম নিয়ন্ত্রণ করে। ৫% নিয়াসিনামাইড সিরাম অনেকের জন্যই কার্যকরী।
  • বেনজয়েল পারঅক্সাইড: এটি ব্যাকটেরিয়া মারতে সাহায্য করে। তবে শুষ্ক ত্বকে ব্যবহার করলে ইরিটেশন হতে পারে।
  • রেটিনয়েড: এটি ত্বকের কোষ রিনিউ করতে সাহায্য করে, পোরস পরিষ্কার রাখে। তবে রাতে ব্যবহার করতে হবে, আর সানস্ক্রিন বাধ্যতামূলক।
  • টি ট্রি অয়েল: প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। তবে সরাসরি ত্বকে লাগানো যাবে না, ক্যারিয়ার অয়েলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করুন।

এই উপাদানগুলো একসাথে ব্যবহার করবেন না। প্রথমে একটা দিয়ে শুরু করুন, তারপর ধীরে ধীরে অন্যটা যোগ করুন।

লাইফস্টাইল: ঘুম, খাবার, বালিশের কভার

স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টের পাশাপাশি লাইফস্টাইলের কিছু পরিবর্তন ব্রণ কমাতে সাহায্য করে:

  • ঘুম: প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমান। ঘুমের অভাব স্ট্রেস হরমোন বাড়ায়, যা ব্রণ বাড়িয়ে দেয়।
  • খাবার: চিনি, দুধ, ফাস্ট ফুড কমিয়ে ফেলুন। এর বদলে সবজি, ফল, বাদাম, মাছ খান। বাংলাদেশে সহজলভ্য পেয়ারা, টমেটো, পালং শাক ব্রণের জন্য ভালো।
  • বালিশের কভার: প্রতি ৩-৪ দিন পরপর বালিশের কভার ধুয়ে ফেলুন। সম্ভব হলে সিল্ক বা সাটিনের কভার ব্যবহার করুন, এতে ঘর্ষণ কম হয়।
  • পানি পান: দিনে অন্তত ২ লিটার পানি পান করুন। ত্বক হাইড্রেটেড থাকলে সেবাম কম তৈরি হয়।
  • স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: যোগব্যায়াম, মেডিটেশন বা হাঁটাহাঁটি করুন। স্ট্রেস কমলে ব্রণও কমবে।

কখন ডার্মাটোলজিস্ট দেখাবেন

যদি ৬-৮ সপ্তাহ রেগুলার স্কিনকেয়ার করার পরও ব্রণ না কমে, তাহলে ডার্মাটোলজিস্টের কাছে যান। বিশেষ করে যদি:

  • ব্রণ খুব বড় বা ব্যথাযুক্ত হয় (সিস্টিক অ্যাকনে)।
  • ব্রণের কারণে দাগ বা হাইপারপিগমেন্টেশন হচ্ছে।
  • ব্রণ মুখের পাশাপাশি বুক, পিঠেও হচ্ছে।
  • আপনার মাসিকের আগে ব্রণ বেড়ে যায় (হরমোনাল অ্যাকনে)।

ডাক্তার আপনাকে অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোনাল থেরাপি বা আইসোট্রেটিনয়েনের মতো ওষুধ দিতে পারেন। তবে এগুলো নিজে থেকে কিনে খাবেন না।

একটি অভ্যাস যেটা বাধ্যতামূলক: প্রতিদিন সকালে ও রাতে মুখ ধোয়ার পর সানস্ক্রিন লাগান। ব্রণ থাকলেও সানস্ক্রিন বাদ দেওয়া যাবে না।

সাধারণ প্রশ্ন

ব্রণ কত দিনে কমে?

সাধারণ ব্রণ (কমেডোন বা হালকা প্যাপিউল) ৪-৬ সপ্তাহে কমতে পারে, যদি রুটিন ঠিক থাকে। তবে সিস্টিক বা হরমোনাল ব্রণ কমতে বেশি সময় লাগে। ধৈর্য ধরুন, আর প্রোডাক্ট বদলাবেন না খুব তাড়াতাড়ি।

ব্রণে বরফ দিলে কি কাজ হয়?

বরফ লালচেভাব ও ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে, কিন্তু ব্রণ সারাতে নয়। বরফ দিলে রক্তনালী সংকুচিত হয়, তাই তাত্ক্ষণিক আরাম পাওয়া যায়। তবে সরাসরি বরফ ত্বকে লাগাবেন না, কাপড়ে মুড়ে নিন। আর দিনে ১-২ বারের বেশি নয়।

ব্রণ খোঁটালে কী হয়?

ব্রণ খোঁটালে ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে, ফলে আরও ব্রণ হয়। এছাড়া দাগ (পোস্ট-ইনফ্ল্যামেটরি হাইপারপিগমেন্টেশন) ও গর্ত (অ্যাকনে স্কার) হতে পারে। যদি খুব চুলকায় বা ব্যথা করে, তাহলে ডাক্তারের কাছে যান।

Shop Related Products

View all products →