Skip to content
দ্রুত ডেলিভারি·COD·ঢাকায় পরের দিন·১০০% অথেনটিক

Sunscreen Guide

শীট মাস্ক ব্যবহারের সঠিক নিয়ম: কখন, কতক্ষণ, তারপর কী

শীট মাস্ক ব্যবহার করছেন, অথচ ত্বকে সেই জাদুকরী গ্লো দেখতে পাচ্ছেন না? মন খারাপ হয়ে যায়, তাই তো? ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাস্ক লাগিয়ে রাখার পরেও যখন ত্বক…

By Hasan Tarafder, Founder · Emart
·

শীট মাস্ক ব্যবহার করছেন, অথচ ত্বকে সেই জাদুকরী গ্লো দেখতে পাচ্ছেন না? মন খারাপ হয়ে যায়, তাই তো? ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাস্ক লাগিয়ে রাখার পরেও যখন ত্বক শুষ্ক বা তৈলাক্তই থেকে যায়, তখন মনে হয় হয়তো কিছু ভুল হচ্ছে। আসলে শীট মাস্কের জাদু লুকিয়ে আছে সঠিক নিয়মে ব্যবহারের মধ্যে। আজকে সেই নিয়মগুলোই জানাবো, যাতে আপনার ত্বক পায় সেই কাঙ্ক্ষিত হাইড্রেশন আর উজ্জ্বলতা।

ঢাকার গরমে ঘামে ভিজে, রিকশা-বাসের ধুলায় ক্লান্ত ত্বককে একটু প্রশান্তি দিতে শীট মাস্কের জুড়ি নেই। কিন্তু সঠিকভাবে না ব্যবহার করলে এই মাস্কও হয়ে উঠতে পারে ত্বকের জন্য বোঝা। তাই চলুন, জেনে নিই শীট মাস্ক ব্যবহারের সঠিক নিয়ম, যাতে আপনার স্কিনকেয়ার রুটিন হয়ে ওঠে আরও কার্যকরী।

শীট মাস্ক আসলে কী করে

শীট মাস্ক হলো এক ধরনের ফেসিয়াল ট্রিটমেন্ট, যেখানে একটি পাতলা কাপড় বা ফাইবারের শিট বিভিন্ন স্কিন-লাভিং এসেন্সে ভিজিয়ে রাখা হয়। এই শিট ত্বকের সঙ্গে লেগে থাকলে এসেন্সগুলো ধীরে ধীরে ত্বকে শোষিত হয়। সাধারণত হায়ালুরনিক অ্যাসিড, ভিটামিন সি, নিয়াসিনামাইড, অ্যালোভেরা, বা গ্রিন টি এক্সট্র্যাক্টের মতো উপাদান থাকে এতে।

এই মাস্কের মূল কাজ হলো ত্বককে গভীরভাবে হাইড্রেট করা, উজ্জ্বলতা বাড়ানো, এবং কিছু ক্ষেত্রে পোরস টাইট করা বা সেবাম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করা। তবে মনে রাখবেন, শীট মাস্ক কোনো ম্যাজিক পিল নয়—এটা আপনার রেগুলার স্কিনকেয়ার রুটিনের একটা বুস্টার মাত্র। ত্বকের গভীর সমস্যা যেমন একনে, হাইপারপিগমেন্টেশন, বা রোসেসিয়ার জন্য ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

সবচেয়ে বড় ভুল: বেশিক্ষণ রেখে দেওয়া

অনেকে মনে করেন, যত বেশি সময় মাস্ক লাগিয়ে রাখবেন, তত বেশি উপকার পাবেন। কিন্তু এটা একেবারেই ভুল ধারণা! শীট মাস্কের এসেন্স শুষে নেওয়ার জন্য ত্বকের নির্দিষ্ট সময় লাগে—সাধারণত ১৫ থেকে ২০ মিনিট। এর বেশি সময় লাগিয়ে রাখলে মাস্ক শুকিয়ে যাবে, আর ত্বক থেকে ময়েশ্চার টেনে নেবে। ফলে ত্বক হয়ে উঠবে আরও শুষ্ক, এমনকি ইরিটেশনও হতে পারে।

বিশেষ করে যাদের সেনসিটিভ স্কিন, তাদের জন্য এই ভুল মারাত্মক হতে পারে। মাস্ক শুকিয়ে গেলে সেটা ত্বকের সঙ্গে লেগে থাকবে, আর তুলতে গেলে ত্বক টানবে। এতে ত্বকের প্রাকৃতিক বেরিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই টাইমার সেট করে রাখুন, আর নির্দিষ্ট সময় পার হলে মাস্ক খুলে ফেলুন।

ব্যবহারের সঠিক ধাপ

শীট মাস্ক ব্যবহারের আগে এবং পরে কিছু ধাপ মেনে চললে এর কার্যকারিতা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। চলুন, জেনে নিই সেই ধাপগুলো:

  1. ক্লিনজিং: প্রথমেই মুখ ভালো করে ধুয়ে নিন। ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার না করলে পোরসের ময়লা, সেবাম, বা মেকআপের অবশিষ্টাংশ মাস্কের এসেন্স শোষণে বাধা দেবে। ঢাকার ধুলা-ময়লায় ত্বক ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তাই ক্লিনজিংয়ের বিকল্প নেই।
  2. টোনিং: ক্লিনজিংয়ের পর টোনার ব্যবহার করুন। টোনার ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স ঠিক রাখে, এবং মাস্কের এসেন্স আরও ভালোভাবে শোষিত হতে সাহায্য করে।
  3. শীট মাস্ক অ্যাপ্লাই: মাস্কের প্যাকেট খুলে শিটটি বের করুন। চোখ, নাক, এবং মুখের সঙ্গে মিলিয়ে সাবধানে লাগান। মাস্কে যদি অতিরিক্ত এসেন্স থাকে, সেটা হাতে নিয়ে ঘাড় বা হাতেও লাগাতে পারেন।
  4. অপেক্ষা: ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এই সময়ে শুয়ে থাকুন বা রিল্যাক্স করুন। মাস্কের ওপর হাত দিয়ে টানবেন না, এতে মাস্কের ফিট নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
  5. মাস্ক খুলে ফেলা: সময় হয়ে গেলে মাস্ক খুলে ফেলুন। মাস্কের এসেন্স ত্বকে লেগে থাকবে, সেটা হাত দিয়ে আলতো করে প্যাট করে নিন। মুখ ধোয়ার দরকার নেই।
  6. ময়েশ্চারাইজার: মাস্কের পর ত্বক কিছুটা নরম থাকে, তাই ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। এতে এসেন্স ত্বকে লক হয়ে থাকবে।
  7. সানস্ক্রিন (দিনের বেলা): যদি দিনের বেলা মাস্ক ব্যবহার করেন, তাহলে অবশ্যই সানস্ক্রিন লাগান। SPF 30 বা তার বেশি PA+++ রেটিংয়ের সানস্ক্রিন বেছে নিন।

বেঁচে যাওয়া এসেন্সের ৩টি ব্যবহার

শীট মাস্ক ব্যবহারের পর প্যাকেটে প্রায়ই কিছু এসেন্স থেকে যায়। এটা ফেলে না দিয়ে নিচের উপায়ে ব্যবহার করতে পারেন:

  • হাত ও ঘাড়ে লাগান: হাতের ত্বকও ময়েশ্চারাইজেশনের প্রয়োজন হয়। বেঁচে যাওয়া এসেন্স হাতে, ঘাড়ে, বা ডেকোলেটেজে লাগিয়ে নিন।
  • ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে মিক্স: যদি আপনার ময়েশ্চারাইজার একটু ভারী মনে হয়, তাহলে এসেন্সের সঙ্গে মিক্স করে লাগাতে পারেন। এতে ময়েশ্চারাইজার আরও হালকা হবে।
  • ড্রাই প্যাচে ব্যবহার: কনুই, হাঁটু, বা পায়ের গোড়ালির মতো ড্রাই প্যাচে এই এসেন্স লাগিয়ে নরম করতে পারেন।

সপ্তাহে কতবার ব্যবহার করবেন

শীট মাস্ক ব্যবহারের ফ্রিকোয়েন্সি নির্ভর করে আপনার ত্বকের ধরন এবং মাস্কের উপাদানের ওপর। সাধারণত সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করাই যথেষ্ট। তবে কিছু বিশেষ মাস্ক আছে যেগুলো সপ্তাহে একবার বা প্রয়োজনমতো ব্যবহার করা উচিত।

  • শুষ্ক ত্বক: হায়ালুরনিক অ্যাসিড বা সিরামাইডযুক্ত মাস্ক সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করতে পারেন।
  • তৈলাক্ত ত্বক: টি ট্রি, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড, বা নিয়াসিনামাইডযুক্ত মাস্ক সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহার করুন। বেশি ব্যবহারে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
  • সেনসিটিভ ত্বক: অ্যালোভেরা বা সেন্ট্রেলা এশিয়াটিকা (মেডেক্যাসয়েড) যুক্ত মাস্ক সপ্তাহে ১ বার ব্যবহার করুন। বেশি ব্যবহারে ইরিটেশন হতে পারে।
  • মিশ্র ত্বক: ভিটামিন সি বা পেপটাইডযুক্ত মাস্ক সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করতে পারেন।

মনে রাখবেন, প্রতিদিন শীট মাস্ক ব্যবহার করা উচিত নয়। ত্বককে তার প্রাকৃতিক তেল উৎপাদনের সুযোগ দিতে হবে, নাহলে ত্বক অলস হয়ে পড়তে পারে।

কোন উপাদানের মাস্ক কোন ত্বকের জন্য

শীট মাস্ক বেছে নেওয়ার সময় ত্বকের ধরন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উপাদান দেখে নিন। এখানে কিছু কমন উপাদান এবং তাদের উপকারিতা দেওয়া হলো:

  • হায়ালুরনিক অ্যাসিড: সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযুক্ত, বিশেষ করে শুষ্ক ত্বকের জন্য। গভীর হাইড্রেশন দেয়।
  • ভিটামিন সি: ডাল ত্বক, হাইপারপিগমেন্টেশন, বা ডার্ক স্পটের জন্য ভালো। উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
  • নিয়াসিনামাইড: তৈলাক্ত ত্বক, বড় পোরস, বা লালচে ভাব কমাতে সাহায্য করে।
  • স্যালিসাইলিক অ্যাসিড: একনে-প্রবণ ত্বকের জন্য আদর্শ। পোরস ক্লিন করে এবং সেবাম নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  • অ্যালোভেরা: সেনসিটিভ বা ইরিটেটেড ত্বকের জন্য প্রশান্তিদায়ক।
  • গ্রিন টি: তৈলাক্ত ত্বক এবং একনে কমাতে সাহায্য করে। অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ আছে।
  • কোলাজেন: বয়সের ছাপ কমাতে এবং ত্বক টানটান রাখতে সাহায্য করে। তবে মনে রাখবেন, কোলাজেন শীট মাস্ক ত্বকে সরাসরি শোষিত হয় না, বরং হাইড্রেশন দিয়ে ত্বককে প্লাম্প করে।

একটি অভ্যাস যেটা বাধ্যতামূলক: মাস্ক ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করে নিন। কানের পেছনে বা হাতের কবজিতে একটু এসেন্স লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। যদি কোনো ইরিটেশন না হয়, তাহলে মুখে ব্যবহার করতে পারেন।

সাধারণ প্রশ্ন

শীট মাস্ক কতক্ষণ রাখতে হয়?

শীট মাস্ক সাধারণত ১৫ থেকে ২০ মিনিট রাখতে হয়। এর বেশি সময় লাগিয়ে রাখলে মাস্ক শুকিয়ে গিয়ে ত্বক থেকে ময়েশ্চার টেনে নিতে পারে, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। নির্দিষ্ট সময় পার হলে মাস্ক খুলে ফেলুন, এবং অতিরিক্ত এসেন্স ত্বকে প্যাট করে নিন।

প্রতিদিন ব্যবহার করা যায়?

না, শীট মাস্ক প্রতিদিন ব্যবহার করা উচিত নয়। সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করাই যথেষ্ট। প্রতিদিন ব্যবহার করলে ত্বক তার প্রাকৃতিক তেল উৎপাদনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে, এবং ত্বক অলস হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে সেনসিটিভ বা তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সপ্তাহে ১-২ বারই যথেষ্ট।

মাস্কের পরে কি মুখ ধুতে হয়?

না, শীট মাস্ক ব্যবহারের পর মুখ ধোয়ার দরকার নেই। মাস্কের এসেন্স ত্বকে শোষিত হওয়ার পর সেটা হাত দিয়ে প্যাট করে নিন। এরপর ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিলেই হবে। তবে যদি মাস্কের পর ত্বক চিটচিটে লাগে, তাহলে হালকা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন, কিন্তু সেটা খুবই কম ক্ষেত্রে প্রয়োজন

Shop Related Products

View all products →