Skip to content
দ্রুত ডেলিভারি·COD·ঢাকায় পরের দিন·১০০% অথেনটিক

Sunscreen Guide

পেপটাইড ও কোলাজেন: ত্বকের টানটান ভাব ধরে রাখার বিজ্ঞান

আপনার ত্বক কি আগের মতো টানটান লাগছে না? আয়নায় তাকিয়ে কি মনে হচ্ছে, “এই রেখাগুলো কোথা থেকে এলো?”—মন খারাপ হয়ে যায়, তাই তো? বিশেষ করে ঢাকার গরমে,…

By Hasan Tarafder, Founder · Emart
·

আপনার ত্বক কি আগের মতো টানটান লাগছে না? আয়নায় তাকিয়ে কি মনে হচ্ছে, “এই রেখাগুলো কোথা থেকে এলো?”—মন খারাপ হয়ে যায়, তাই তো? বিশেষ করে ঢাকার গরমে, এসি অফিসের শুষ্ক হাওয়ায়, রিকশা-বাসের ধুলোবালিতে ত্বক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু চিন্তা করবেন না, বিজ্ঞান আমাদের হাতে এমন কিছু উপাদান দিয়েছে যা এই সমস্যাগুলোর সাথে লড়াই করতে পারে। আজ আমরা কথা বলবো পেপটাইড আর কোলাজেন নিয়ে—যারা ত্বকের টানটান ভাব ধরে রাখতে সাহায্য করে।

কোলাজেন হলো ত্বকের মূল কাঠামো, আর পেপটাইড সেই কোলাজেন তৈরির বার্তাবাহক। কিন্তু সমস্যা হলো, ২৫ বছর পার হলেই আমাদের শরীরে কোলাজেন কমতে শুরু করে। তখন ত্বক পাতলা হয়ে যায়, বলিরেখা দেখা দেয়, আর টানটান ভাবটা হারিয়ে যায়। কিন্তু চিন্তার কিছু নেই—সঠিক স্কিনকেয়ার রুটিন আর কিছু বিজ্ঞানসম্মত উপাদান দিয়ে এই প্রক্রিয়াকে ধীর করা যায়। চলুন জেনে নিই কীভাবে।

২৫-এর পর কোলাজেন কমতে শুরু করে: সত্যি কি এত তাড়াতাড়ি?

হ্যাঁ, দুঃখজনক হলেও সত্যি। ২৫ বছর বয়স থেকেই আমাদের শরীরে কোলাজেন উৎপাদন কমতে শুরু করে। প্রতি বছর প্রায় ১% করে কোলাজেন কমে যায়। ফলে ত্বক তার স্থিতিস্থাপকতা হারায়, বলিরেখা দেখা দেয়, আর গালের টানটান ভাবটা আর থাকে না। এটা শুধু বয়সের কারণেই নয়—সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, দূষণ, ধূমপান, এমনকি অতিরিক্ত চিনি খাওয়াও কোলাজেন ভাঙতে সাহায্য করে।

কিন্তু কেন কোলাজেন এত গুরুত্বপূর্ণ? কারণ এটা ত্বকের মিডল লেয়ার (ডার্মিস) এর মূল উপাদান। কোলাজেন ত্বককে মজবুত, টানটান আর নমনীয় রাখে। যখন কোলাজেন কমে যায়, তখন ত্বক পাতলা হয়ে যায়, আর বলিরেখা দেখা দেয়। তাই ২৫-এর পর থেকেই কোলাজেন ধরে রাখার চেষ্টা করা জরুরি।

পেপটাইড: ত্বককে কোলাজেন বানাতে বলার সংকেত

পেপটাইড হলো ছোট ছোট অ্যামিনো অ্যাসিডের চেইন, যা ত্বকের জন্য বার্তাবাহকের মতো কাজ করে। যখন আপনি পেপটাইড সিরাম বা ক্রিম ব্যবহার করেন, তখন এটা ত্বকের কোষগুলোকে সংকেত দেয় যে “কোলাজেন তৈরি করো!” ফলে ত্বক নিজেই নতুন কোলাজেন তৈরি করতে শুরু করে।

পেপটাইডের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটা ত্বকের গভীরে ঢুকে কাজ করে। স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা নিয়াসিনামাইডের মতো অন্যান্য স্কিনকেয়ার উপাদানের সাথে মিলে পেপটাইড ত্বকের টেক্সচার উন্নত করে, বলিরেখা কমায়, আর ত্বককে আরও টানটান করে তোলে। তবে মনে রাখবেন, পেপটাইড একা কাজ করে না—এটাকে সঠিক ময়েশ্চারাইজার আর সানস্ক্রিনের সাথে ব্যবহার করতে হয়।

বাজারে অনেক ধরনের পেপটাইড পাওয়া যায়—কপার পেপটাইড, ম্যাট্রিক্সিল, আরজিরেলাইন। প্রতিটির কাজ একটু আলাদা। যেমন, কপার পেপটাইড ত্বকের ক্ষত সারাতে সাহায্য করে, আর ম্যাট্রিক্সিল কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়। তাই কোন পেপটাইড সিরাম আপনার জন্য ভালো হবে, সেটা বুঝতে একজন স্কিন স্পেশালিস্টের পরামর্শ নিতে পারেন।

ক্রিমে কোলাজেন মাখলে কি কোলাজেন বাড়ে?

এটা একটা খুব সাধারণ প্রশ্ন। অনেক ক্রিম বা লোশনে লেখা থাকে “কোলাজেন ইনফিউজড” বা “কোলাজেন বুস্টিং”। কিন্তু সত্যি কথা হলো, ক্রিমে থাকা কোলাজেন সরাসরি ত্বকের কোলাজেন বাড়াতে পারে না। কারণ কোলাজেনের অণুগুলো এত বড় যে ত্বকের গভীরে ঢুকতে পারে না। তাহলে এই ক্রিমগুলো কাজ করে কীভাবে?

এই ক্রিমগুলোতে আসলে কোলাজেনের টুকরো বা হাইড্রোলাইজড কোলাজেন থাকে, যা ত্বকের উপরিভাগে হাইড্রেশন বাড়ায়। ফলে ত্বক কিছুক্ষণের জন্য ফুলে উঠে, আর বলিরেখা কম দেখা যায়। কিন্তু এটা স্থায়ী সমাধান নয়। তাই কোলাজেন ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বক কিছুটা মসৃণ লাগতে পারে, কিন্তু এটা ত্বকের ভেতরের কোলাজেন বাড়াতে পারে না।

তাহলে কোলাজেন বাড়ানোর জন্য কী করবেন? পেপটাইড, রেটিনল, ভিটামিন সি—এই উপাদানগুলো ত্বককে নিজে থেকে কোলাজেন তৈরি করতে সাহায্য করে। আর বাইরে থেকে কোলাজেন নিতে চাইলে কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন। তবে সেটা কাজ করবে কি না, সেটা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ আছে।

কোন বয়সে শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ?

স্কিনকেয়ার নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল হলো “আমার তো এখনো বয়স হয়নি, তাই স্কিনকেয়ার লাগবে না” ভাবা। সত্যি কথা হলো, প্রতিরোধই সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা। তাই ২০ বছর বয়স থেকেই স্কিনকেয়ার রুটিন শুরু করা উচিত। তবে পেপটাইড বা কোলাজেন-বুস্টিং প্রোডাক্ট ব্যবহার শুরু করার জন্য ২৫-৩০ বছর বয়সটা আদর্শ।

কিন্তু যদি আপনার বয়স ৩০ পার হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলেও চিন্তার কিছু নেই। এখনই শুরু করুন। পেপটাইড সিরাম, ভিটামিন সি, আর সানস্ক্রিন—এই তিনটা জিনিস আপনার রুটিনে যোগ করুন। আর যদি ত্বকে বলিরেখা বা ঝুলে যাওয়া লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে রেটিনলও যোগ করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, স্কিনকেয়ার একদিনে ফল দেয় না—ধৈর্য ধরে নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে।

আর হ্যাঁ, শুধু প্রোডাক্ট ব্যবহার করলেই হবে না—স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, আর পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। কারণ ত্বকের স্বাস্থ্য শুধু বাইরে থেকে নয়, ভেতর থেকেও ঠিক করতে হয়।

রেটিনলের সাথে পেপটাইডের জুটি: কেন এটা ম্যাজিকের মতো কাজ করে?

রেটিনল আর পেপটাইড—এই দুটো উপাদান একসাথে ব্যবহার করলে ত্বকের জন্য সত্যিই দারুণ ফল পাওয়া যায়। রেটিনল ত্বকের কোষের রিনিউয়াল প্রক্রিয়া বাড়ায়, আর পেপটাইড কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে। ফলে ত্বক হয়ে ওঠে মসৃণ, টানটান, আর উজ্জ্বল।

তবে রেটিনল আর পেপটাইড একসাথে ব্যবহার করার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। রেটিনল ত্বককে শুষ্ক করে ফেলতে পারে, তাই পেপটাইড সিরাম ব্যবহারের পর ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। আর রেটিনল রাতে ব্যবহার করা ভালো, কারণ এটা সূর্যের আলোতে নষ্ট হয়ে যায়।

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রেটিনল ব্যবহার শুরু করলে ত্বক কিছুটা লাল হয়ে যেতে পারে বা খোসা উঠতে পারে। এটা স্বাভাবিক। তাই প্রথম কয়েক সপ্তাহ কম ডোজে ব্যবহার করুন, তারপর ধীরে ধীরে বাড়ান। আর যদি ত্বক খুব বেশি ইরিটেটেড হয়ে যায়, তাহলে কিছুদিন বিরতি দিন।

বাস্তব প্রত্যাশা: কী পারবে, কী পারবে না

স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট নিয়ে অনেক সময় আমাদের প্রত্যাশা থাকে আকাশছোঁয়া। কিন্তু সত্যি কথা হলো, কোনো প্রোডাক্টই জাদুর মতো কাজ করে না। পেপটাইড আর কোলাজেন-বুস্টিং প্রোডাক্টগুলো ত্বকের টানটান ভাব ধরে রাখতে সাহায্য করে, বলিরেখা কমায়, আর ত্বককে আরও মসৃণ করে তোলে। কিন্তু এগুলো ত্বকের গভীর বলিরেখা বা খুব বেশি ঝুলে যাওয়া ত্বক পুরোপুরি ঠিক করতে পারবে না।

তাই বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা রাখুন। পেপটাইড সিরাম বা রেটিনল ব্যবহার করলে ত্বক কিছুটা উন্নত হবে, কিন্তু এটা আপনাকে ২০ বছরের ত্বক ফিরিয়ে দেবে না। আর মনে রাখবেন, স্কিনকেয়ার একটা দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া—একদিনে ফল পাবেন না। নিয়মিত ব্যবহার করুন, ধৈর্য ধরুন, আর ত্বকের পরিবর্তন লক্ষ্য করুন।

আর যদি ত্বকের সমস্যা খুব বেশি হয়, তাহলে একজন ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন। কারণ কখনো কখনো স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টের বাইরেও চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

একটি অভ্যাস যেটা বাধ্যতামূলক: সানস্ক্রিন ব্যবহার। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি কোলাজেন ভাঙার প্রধান কারণ। তাই SPF 30 বা তার বেশি PA+++ সানস্ক্রিন প্রতিদিন ব্যবহার করুন, এমনকি মেঘলা দিনেও।

সাধারণ প্রশ্ন

পেপটাইড কোন বয়স থেকে ব্যবহার করব?

পেপটাইড ব্যবহার শুরু করার জন্য আদর্শ বয়স হলো ২৫-৩০ বছর। তবে যদি আপনার ত্বকে আগে থেকেই বলিরেখা বা ঝুলে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে ২০ বছর বয়স থেকেই শুরু করতে পারেন। পেপটাইড ত্বকের জন্য নিরাপদ, তাই বয়স কম হলেও ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই। তবে সবসময় প্যাচ টেস্ট করে নিন, কারণ কারো কারো ত্বক সংবেদনশীল হতে পারে।

কোলাজেন খেলে কি ত্বক ভালো হয়?

কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ আছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কোলাজেন পেপটাইড খাওয়ার ফলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়ে আর বলিরেখা কমে। তবে এটা নির্ভর করে সাপ্লিমেন্টের গুণগত মানের উপর। আবার কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কোলাজেন খাওয়ার পর শরীরে এটা ভেঙে যায়, আর ত্বকের জন্য বিশেষ কোনো উপকার হয় না। তাই কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার আগে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

পেপটাইড কি সব ত্বকে নিরাপদ?

পেপটাইড সাধারণত সব ধরনের ত্বকের জন্য নিরাপদ। তবে কারো কারো ত্বক সংবেদনশীল হলে পেপটাইড সিরাম ব্যবহারে সামান্য লালচে বা চুলকানি হতে পারে। তাই নতুন কোনো প্রোডাক্ট ব্যবহার করার আগে প্যাচ টেস্ট করে নিন। আর যদ

Shop Related Products

View all products →