Skip to content
দ্রুত ডেলিভারি·COD·ঢাকায় পরের দিন·১০০% অথেনটিক

Sunscreen Guide

তেলতেলে ত্বকের যত্ন: গরমে অয়েলি স্কিনের সহজ রুটিন

গরমে তেলতেলে ত্বক নিয়ন্ত্রণে রাখুন সহজ রুটিনে। জেল বনাম ক্রিম, ক্লে মাস্ক, সানস্ক্রিন—অয়েলি স্কিনের যত্নের সব টিপস জানুন।

By Hasan Tarafder, Founder · Emart
·

গরমের দিনে মুখটা চকচক করছে, রিকশায় বসে আছেন—হঠাৎ আয়নায় তাকিয়ে দেখলেন তেলের মতো চকচকে ভাব। মন খারাপ হয়ে যায়, তাই তো? বিশেষ করে যখন দেখেন মেকআপও টিকছে না, ঘামের সঙ্গে মিশে সব গলে যাচ্ছে। অয়েলি স্কিনের এই ঝামেলা শুধু আপনার নয়, অনেকেরই। কিন্তু জানেন কি, একটু সঠিক যত্ন নিলেই এই তেলতেলে ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়?

বাংলাদেশের আবহাওয়া, বিশেষ করে ঢাকার গরম আর আর্দ্রতা, তেলতেলে ত্বকের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এসি অফিস থেকে বের হয়ে রাস্তার ধুলো-ময়লা, তারপর আবার ঘাম—এই চক্রে ত্বক কখনোই শান্তি পায় না। কিন্তু চিন্তা নেই, কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললেই আপনার ত্বক থাকবে ফ্রেশ আর ম্যাট। চলুন জেনে নিই কীভাবে।

ত্বক তেলতেলে হয় কেন

আমাদের ত্বকের নিচে সেবাসিয়াস গ্ল্যান্ড নামে এক ধরনের গ্রন্থি থাকে, যা সেবাম নামের একটা প্রাকৃতিক তেল তৈরি করে। এই সেবাম ত্বককে নরম রাখে, পানি হারানো থেকে বাঁচায়। কিন্তু যখন এই সেবাম বেশি তৈরি হয়, তখন ত্বক তেলতেলে দেখায়।

তেলতেলে ত্বকের পেছনে জিনেটিক্স, হরমোন, আবহাওয়া—সবই দায়ী। বাংলাদেশের মতো গরম আর আর্দ্র দেশে এই সমস্যা আরও বেড়ে যায়। কারণ গরমে সেবামের উৎপাদন বেড়ে যায়, আর আর্দ্রতায় ঘামের সঙ্গে মিশে ত্বক আরও চকচকে হয়ে ওঠে।

এছাড়া ভুল স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার, বেশি মুখ ধোয়া, বা অ্যালকোহলযুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করলেও ত্বক আরও বেশি তেল তৈরি করে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। তাই প্রথমেই বুঝতে হবে, তেলতেলে ত্বক মানেই খারাপ নয়—এটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, শুধু নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

অয়েলি স্কিনের সবচেয়ে বড় ভুল: বেশি ধোয়া

অনেকেই ভাবেন, মুখ বারবার ধুলে তেল কমবে। কিন্তু এটা একটা বড় ভুল। বেশি ধুলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল চলে যায়, তখন ত্বক নিজেকে রক্ষা করার জন্য আরও বেশি তেল তৈরি করে। ফলে তেলতেলে ভাব আরও বেড়ে যায়।

ধরুন, আপনি দিনে পাঁচবার মুখ ধুচ্ছেন। প্রথমে মনে হবে তেল কমছে, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই ত্বক আরও চকচকে হয়ে উঠবে। কারণ ত্বক তার প্রাকৃতিক ময়েশ্চার হারিয়ে ফেলছে, আর সেবামের উৎপাদন বেড়ে যাচ্ছে।

তাই দিনে দুইবার—সকালে আর রাতে—মুখ ধোয়া যথেষ্ট। এর বেশি নয়। আর মুখ ধোয়ার সময় হালকা গরম পানি ব্যবহার করুন, গরম পানি নয়। গরম পানি ত্বকের তেল শুষে নেয়, যা ত্বককে আরও শুষ্ক করে তোলে।

সকাল ও রাতের সহজ রুটিন

অয়েলি স্কিনের জন্য রুটিনটা হতে হবে সহজ, কিন্তু কার্যকর। সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই মুখ ধুয়ে নিন হালকা জেল-ভিত্তিক ক্লিনজার দিয়ে। এরপর টোনার লাগান, যাতে ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স ঠিক থাকে। টোনার হিসেবে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা নিয়াসিনামাইডযুক্ত প্রোডাক্ট বেছে নিতে পারেন।

এরপর লাইটওয়েট ময়েশ্চারাইজার লাগান। হ্যাঁ, অয়েলি স্কিনেও ময়েশ্চারাইজার লাগে! কারণ ত্বক শুষ্ক হলে আরও বেশি তেল তৈরি করে। ময়েশ্চারাইজার হিসেবে জেল বা ওয়াটার-বেসড প্রোডাক্ট বেছে নিন। সবশেষে সানস্ক্রিন লাগান—এটা বাধ্যতামূলক। সানস্ক্রিন হিসেবে ম্যাট ফিনিশ বা জেল-ভিত্তিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন।

রাতে ঘুমানোর আগে আবার মুখ ধুয়ে নিন। এরপর টোনার, তারপর সিরাম (যদি ব্যবহার করেন)। সিরাম হিসেবে নিয়াসিনামাইড বা জিঙ্কযুক্ত প্রোডাক্ট বেছে নিতে পারেন, যা তেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সবশেষে আবার লাইটওয়েট ময়েশ্চারাইজার লাগান।

এই রুটিনটা মেনে চললে ত্বক থাকবে ফ্রেশ, আর তেলতেলে ভাবও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

জেল vs ক্রিম: কোন টেক্সচার বাছবেন

অয়েলি স্কিনের জন্য প্রোডাক্ট বাছাই করার সময় টেক্সচারটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। জেল বা ওয়াটার-বেসড প্রোডাক্ট সবসময়ই ভালো। কারণ এগুলো ত্বকে হালকা অনুভূতি দেয়, চকচকে ভাব কমায়।

ক্রিম-ভিত্তিক প্রোডাক্ট সাধারণত তেলতেলে ত্বকের জন্য উপযুক্ত নয়, কারণ এগুলো ত্বকে ভারী অনুভূতি দেয়, পোরস ব্লক করে। তবে যদি কোনো ক্রিমের টেক্সচার হালকা হয়, তাহলে সেটা ব্যবহার করতে পারেন।

ময়েশ্চারাইজার হিসেবে জেল বা লাইটওয়েট লোশন বেছে নিন। সানস্ক্রিনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম—জেল বা ম্যাট ফিনিশ প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন। যেমন, COSRX Aloe Soothing Sun Cream বা La Roche-Posay Anthelios UVMune 400—এগুলো অয়েলি স্কিনের জন্য ভালো অপশন।

ঢাকার গরমে মেকআপের নিচে অয়েল কন্ট্রোল

ঢাকার গরমে মেকআপ টিকিয়ে রাখা একটা বড় চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে অয়েলি স্কিনের জন্য। কিন্তু কিছু টিপস মেনে চললে মেকআপ দীর্ঘক্ষণ টিকে থাকবে।

প্রথমেই মুখ ভালো করে ক্লিনজ করে নিন। এরপর টোনার লাগান, যাতে ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স ঠিক থাকে। এরপর প্রাইমার লাগান—এটা মেকআপের বেস তৈরি করে, তেল শোষণ করে। প্রাইমার হিসেবে ম্যাটিফাইং বা ব্লারিং প্রাইমার বেছে নিন।

ফাউন্ডেশন লাগানোর সময় অয়েল-ফ্রি বা ম্যাট ফিনিশ প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন। পাউডার ফাউন্ডেশনও ভালো অপশন। এরপর সেটিং স্প্রে বা পাউডার দিয়ে মেকআপ সেট করে নিন। সেটিং স্প্রে হিসেবে ম্যাটিফাইং স্প্রে ব্যবহার করুন।

মেকআপের মাঝে ব্লটিং পেপার ব্যবহার করতে পারেন, যা অতিরিক্ত তেল শুষে নেবে। তবে বেশি ঘষবেন না, নাহলে মেকআপ উঠে যাবে।

সপ্তাহে একদিন: ক্লে মাস্ক

ক্লে মাস্ক অয়েলি স্কিনের জন্য একটা বেস্ট ফ্রেন্ড। এটা ত্বকের অতিরিক্ত তেল, ময়লা, আর পোরসের ভেতরের দূষিত পদার্থ শুষে নেয়। সপ্তাহে একদিন ক্লে মাস্ক ব্যবহার করলে ত্বক থাকবে পরিষ্কার, আর তেলতেলে ভাব কমবে।

ক্লে মাস্ক হিসেবে কেওলিন বা বেন্টোনাইট ক্লে ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো ত্বকের তেল শুষে নেয়, কিন্তু ত্বককে শুষ্ক করে না। মাস্ক লাগানোর পর ১০-১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এরপর টোনার আর ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভুলবেন না।

ক্লে মাস্ক ব্যবহারের পর ত্বক একটু টানটান লাগতে পারে, কিন্তু এটা স্বাভাবিক। কারণ ক্লে ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়। তবে যদি ত্বক খুব শুষ্ক বা ইরিটেটেড লাগে, তাহলে মাস্কের সময় কমিয়ে দিন বা কম ঘন ঘন ব্যবহার করুন।

সাধারণ প্রশ্ন

অয়েলি স্কিনে কি ময়েশ্চারাইজার লাগে?

হ্যাঁ, অবশ্যই লাগে। অয়েলি স্কিনেও ময়েশ্চারাইজার প্রয়োজন, কারণ ত্বক শুষ্ক হলে আরও বেশি তেল তৈরি করে। তবে ময়েশ্চারাইজার হিসেবে লাইটওয়েট, জেল বা ওয়াটার-বেসড প্রোডাক্ট বেছে নিন। এগুলো ত্বকে হালকা অনুভূতি দেয়, চকচকে ভাব কমায়।

দিনে কতবার মুখ ধোয়া উচিত?

দিনে দুইবার—সকালে আর রাতে—মুখ ধোয়া যথেষ্ট। এর বেশি ধুলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল চলে যায়, যা ত্বককে আরও তেলতেলে করে তোলে। তবে যদি ঘাম বা ময়লা লাগে, তাহলে শুধু পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন।

অয়েলি স্কিনের জন্য কোন সানস্ক্রিন?

অয়েলি স্কিনের জন্য ম্যাট ফিনিশ বা জেল-ভিত্তিক সানস্ক্রিন বেছে নিন। এগুলো ত্বকে চকচকে ভাব কমায়, আর তেল শোষণ করে। যেমন, SPF 50 PA+++ যুক্ত সানস্ক্রিন ভালো অপশন। ব্র্যান্ড হিসেবে COSRX, La Roche-Posay, বা Neutrogena-এর প্রোডাক্টগুলো ভালো কাজ করে।

Shop Related Products

View all products →