Skip to content
দ্রুত ডেলিভারি·COD·ঢাকায় পরের দিন·১০০% অথেনটিক

Sunscreen Guide

বর্ষায় ত্বকের যত্ন: আর্দ্র আবহাওয়ার স্কিনকেয়ার রুটিন

বর্ষায় ত্বক তেলতেলে হয়, ফাঙ্গাল ইনফেকশন দেখা দেয়। আর্দ্র আবহাওয়ায় ত্বককে সুস্থ রাখতে হালকা প্রোডাক্ট, সানস্ক্রিন ও সঠিক রুটিন মেনে চলুন।

By Hasan Tarafder, Founder · Emart
·

বর্ষা এসে গেছে, তাই না? আকাশের মেঘ আর বৃষ্টির শব্দে মন ভালো হলেও ত্বক কিন্তু অন্য কথা বলছে। সকালে অফিসের রিকশায় ঘাম, দুপুরে এসির ঠান্ডা হাওয়া, বিকেলে বাসার বারান্দায় ভেজা বাতাস—এই সবকিছু মিলিয়ে ত্বক হয়ে যায় কনফিউজড। একবার শুষ্ক লাগে, পরক্ষণেই তেলতেলে, তারপর আবার চুলকানি বা ব্রণ। এই সময়ে ত্বকের যত্ন নিতে গেলে একটু আলাদা প্ল্যান লাগে। চলুন, বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়ায় কীভাবে ত্বককে সুস্থ রাখবেন, সেটা জেনে নিই।

বর্ষাকালে ত্বক যেন একটা রোলারকোস্টারে চড়ে বসে। একদিকে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি, তাই ঘাম হয় বেশি, অন্যদিকে মেঘলা আকাশেও সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থাকে। এছাড়া ভেজা জুতা-জামা, ঘামে ভেজা ব্যাগের স্ট্র্যাপ—সবকিছুই ত্বকের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এই সময়ে স্কিনকেয়ার রুটিনে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। তাহলে চলুন, শুরু করা যাক।

বর্ষায় ত্বকের আচরণ বদলায় কেন

বর্ষায় বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যায়। এই আর্দ্রতা ত্বকের উপরিভাগে জলীয় বাষ্পের একটা স্তর তৈরি করে, যার ফলে ত্বক নিজেকে হাইড্রেটেড মনে করে। কিন্তু এই আর্দ্রতা ত্বকের প্রাকৃতিক তেল (সেবাম) উৎপাদনেও প্রভাব ফেলে। অনেকের ক্ষেত্রে সেবাম বেড়ে যায়, ফলে মুখ তেলতেলে লাগে। আবার কারও কারও ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, কারণ বাতাসের আর্দ্রতা ত্বকের নিজস্ব আর্দ্রতাকে ধরে রাখতে বাধা দেয়।

এছাড়া বর্ষায় তাপমাত্রার ওঠানামা ত্বকের পোরসগুলোকে সংবেদনশীল করে তোলে। ঢাকার মতো শহরে যেখানে বৃষ্টির পরপরই রোদ উঠে যায়, সেখানে ত্বককে বারবার মানিয়ে নিতে হয়। এই পরিবর্তনের ফলে ত্বক ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ব্রণ, র‍্যাশ বা অ্যালার্জির মতো সমস্যা দেখা দেয়। তাই বর্ষায় ত্বকের যত্ন নিতে হলে এই পরিবর্তনগুলো বুঝতে হবে।

আর্দ্রতায় ফাঙ্গাল সমস্যা ও ঘামাচি

বর্ষায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ফাঙ্গাল ইনফেকশন। ভেজা কাপড়, ঘামে ভেজা শরীর, আর বাতাসের আর্দ্রতা—এই তিনের মিলনে ত্বকে ফাঙ্গাস জন্ম নেয়। বিশেষ করে বগল, কুঁচকি, পায়ের আঙুলের ফাঁকে, ঘাড়ের পেছনে—এই জায়গাগুলোতে ফাঙ্গাল ইনফেকশন বেশি হয়। চুলকানি, লালচে দাগ, বা ছোট ছোট ফুসকুড়ি দেখলে বুঝবেন ফাঙ্গাসের আক্রমণ শুরু হয়েছে।

ঘামাচিও বর্ষায় খুব সাধারণ সমস্যা। ঘাম জমে গিয়ে ত্বকের পোরস বন্ধ হয়ে গেলে ঘামাচি হয়। এটা সাধারণত পিঠ, ঘাড়, বা বুকে বেশি দেখা যায়। ঘামাচি হলে ত্বক লাল হয়ে যায়, চুলকায়, আর কখনো কখনো ছোট ছোট ফোস্কাও পড়ে। এই সমস্যাগুলো এড়াতে হলে ত্বককে শুকনো রাখা জরুরি। ভেজা কাপড় বা জুতা দ্রুত বদলে ফেলুন, আর সম্ভব হলে অ্যান্টিফাঙ্গাল পাউডার ব্যবহার করুন।

যদি ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা ঘামাচি বেশি হয়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। বাড়িতে চিকিৎসা করতে গেলে সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

হালকা টেক্সচারে বদলান: জেল আর ফ্লুইড

বর্ষায় ত্বকের যত্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রোডাক্টের টেক্সচার বদলানো। এই সময়ে ক্রিম বা ভারী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক আরও তেলতেলে হয়ে যেতে পারে। তাই হালকা জেল বা ফ্লুইড বেসড প্রোডাক্ট বেছে নিন। যেমন, ক্লিনজার হিসেবে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা নিয়াসিনামাইড যুক্ত জেল ক্লিনজার ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করবে, পোরস পরিষ্কার রাখবে।

ময়েশ্চারাইজার হিসেবে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড যুক্ত জেল বা লাইটওয়েট ফ্লুইড ব্যবহার করুন। এগুলো ত্বককে হাইড্রেট করবে, কিন্তু ভারী লাগবে না। বর্ষায় সিরামও খুব কার্যকর। নিয়াসিনামাইড বা ভিটামিন সি সিরাম ত্বকের টোন উজ্জ্বল করবে, ব্রণের দাগ কমাবে।

এমার্ট স্কিনকেয়ার বাংলাদেশের মতো দোকানে এখন অনেক হালকা টেক্সচারের প্রোডাক্ট পাওয়া যায়। আপনার ত্বকের ধরন বুঝে সঠিক প্রোডাক্ট বেছে নিন।

মেঘলা দিনেও সানস্ক্রিন লাগে

অনেকেই ভাবেন, বর্ষায় সূর্য থাকে না, তাই সানস্ক্রিন লাগানোর দরকার নেই। কিন্তু এটা একদম ভুল ধারণা। মেঘলা আকাশেও সূর্যের ইউভি রশ্মি ত্বকে পৌঁছায়। এই রশ্মি ত্বকের বার্ধক্য ত্বরান্বিত করে, পিগমেন্টেশন বাড়ায়, আর ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ায়। তাই বর্ষায়ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।

বর্ষায় হালকা, ওয়াটারপ্রুফ সানস্ক্রিন বেছে নিন। SPF 30 বা তার বেশি, আর PA+++ রেটিং থাকলে ভালো। জেল বা ফ্লুইড বেসড সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন, যাতে ত্বক ভারী না লাগে। রিকশায় বা বাসে যাওয়ার সময়ও সানস্ক্রিন লাগানো থাকলে ত্বক সুরক্ষিত থাকবে।

সানস্ক্রিন লাগানোর পর যদি ঘাম হয়, তাহলে টিস্যু দিয়ে আলতো করে মুছে আবার লাগিয়ে নিন। দিনে অন্তত দুবার সানস্ক্রিন রিঅ্যাপ্লাই করা উচিত।

ভেজা জুতা-জামার সাথে বডি কেয়ার

বর্ষায় ভেজা জুতা বা কাপড় ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। ভেজা জুতা পায়ের ত্বকে ফাঙ্গাল ইনফেকশন তৈরি করতে পারে। তাই বৃষ্টিতে ভিজলে যত দ্রুত সম্ভব জুতা বদলে ফেলুন। সম্ভব হলে অ্যান্টিফাঙ্গাল পাউডার ব্যবহার করুন।

ভেজা কাপড় শরীরে বেশিক্ষণ রাখলে ত্বকে র‍্যাশ বা চুলকানি হতে পারে। তাই বৃষ্টিতে ভিজলে দ্রুত শুকনো কাপড় পরে নিন। বডি ওয়াশ হিসেবে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সোপ বা টি ট্রি অয়েল যুক্ত বডি ওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো ত্বককে পরিষ্কার রাখবে, ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে।

বডি লোশন হিসেবে হালকা, নন-গ্রিজি লোশন ব্যবহার করুন। ভারী ক্রিম বা বডি বাটার এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো ত্বকে ঘাম জমতে সাহায্য করে।

বর্ষার সহজ সকাল-রাত রুটিন

বর্ষায় ত্বকের যত্নে সকাল আর রাতের রুটিনে কিছু পরিবর্তন আনুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই মুখ ধুয়ে নিন। জেল ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। তারপর টোনার লাগান, এতে ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স ঠিক থাকবে। এরপর নিয়াসিনামাইড বা ভিটামিন সি সিরাম লাগান। সিরামের পর হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগান। সবশেষে সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিন।

রাতে ঘুমানোর আগে প্রথমে মেকআপ বা ধুলা-ময়লা পরিষ্কার করুন। ডাবল ক্লিনজিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমে অয়েল ক্লিনজার দিয়ে মেকআপ বা সানস্ক্রিন তুলে ফেলুন, তারপর জেল ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এরপর টোনার লাগান। রাতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড বা পেপটাইড সিরাম ব্যবহার করতে পারেন। সবশেষে হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগান।

সপ্তাহে এক বা দুই দিন এক্সফোলিয়েট করুন। স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা ল্যাকটিক অ্যাসিড যুক্ত এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের মৃত কোষ দূর হবে, পোরস পরিষ্কার থাকবে।

সাধারণ প্রশ্ন

বর্ষায় কি ময়েশ্চারাইজার লাগে?

হ্যাঁ, বর্ষায়ও ময়েশ্চারাইজার লাগে। তবে ভারী ক্রিমের বদলে হালকা জেল বা ফ্লুইড বেসড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এগুলো ত্বককে হাইড্রেট করবে, কিন্তু তেলতেলে ভাব আসবে না।

মেঘলা দিনে সানস্ক্রিন লাগবে?

অবশ্যই লাগবে। মেঘলা আকাশেও সূর্যের ইউভি রশ্মি ত্বকে পৌঁছায়। তাই বর্ষায়ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। হালকা, ওয়াটারপ্রুফ সানস্ক্রিন বেছে নিন।

বর্ষায় মুখ বেশি তেলতেলে হয় কেন?

বর্ষায় বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে, যা ত্বকের সেবাম উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া ঘাম আর আর্দ্রতার কারণে ত্বক তেলতেলে লাগে। হালকা ক্লিনজার আর টোনার ব্যবহার করলে এই সমস্যা কমবে।

একটি অভ্যাস যেটা বাধ্যতামূলক: সানস্ক্রিন লাগানো, বৃষ্টিতে ভিজলে দ্রুত শুকনো কাপড় পরা।

Shop Related Products

View all products →