Skip to content
দ্রুত ডেলিভারি·COD·ঢাকায় পরের দিন·১০০% অথেনটিক

Hydration Guide

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের ৬টি সাধারণ ভুল

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের নিয়ম জানুন। শুকনো ত্বকে লাগানো, অয়েলি স্কিনে বাদ দেওয়া, ঋতু বদলেও প্রোডাক্ট না বদলানো—এই ভুলগুলো এড়িয়ে ত্বক রাখুন হাইড্রেটেড ও সুস

By Hasan Tarafder, Founder · Emart
·

ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পরেও ত্বক টানটান লাগে, শুষ্কতা যায় না—এমনটা কি আপনার সাথেও হয়? অথবা ভাবছেন, “আমার তো অয়েলি স্কিন, ময়েশ্চারাইজার লাগাবো কেন?” যদি এমন চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায়, তাহলে জেনে রাখুন, আপনি একা নন। বাংলাদেশের আবহাওয়ায়—গরমে ঘাম, শীতে শুষ্কতা, আর অফিসের এসিতে বসে থাকতে থাকতে ত্বক হয়ে যায় রুক্ষ। অথচ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের নিয়ম জানলে এই সমস্যাগুলো সহজেই এড়ানো যায়। কিন্তু আমরা প্রায়ই কিছু সাধারণ ভুল করে ফেলি, যা ত্বকের ক্ষতি করে বসে। আজকে সেই ভুলগুলো নিয়েই কথা বলবো, যাতে আপনার স্কিনকেয়ার রুটিন হয়ে ওঠে আরও কার্যকর।

ময়েশ্চারাইজার কোনটা ভালো—এই প্রশ্নের উত্তর জানার আগে জরুরি হলো, সেটা সঠিকভাবে ব্যবহার করা। কারণ একটা ভালো প্রোডাক্টও যদি ভুল পদ্ধতিতে লাগানো হয়, তাহলে কাজের কাজ কিছুই হয় না। তাই চলুন, জেনে নিই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের সেই ৬টি ভুল, যা হয়তো আপনিও করে চলেছেন প্রতিদিন।

শুকনো ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগানো

আপনি হয়তো ভাবছেন, ত্বক শুকিয়ে গেলে তবেই ময়েশ্চারাইজার লাগানো উচিত। কিন্তু এই ধারণাটাই ভুল! শুকনো ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগালে তা ঠিকমতো অ্যাবজর্ব হয় না, বরং উপরে জমে থাকে। ফলে ত্বক আরও রুক্ষ লাগে, আর ময়েশ্চারাইজারের কার্যকারিতা কমে যায়।

বাংলাদেশের আবহাওয়ায়, বিশেষ করে ঢাকার মতো শহরে যেখানে ধুলাবালি আর দূষণের মাত্রা বেশি, সেখানে ত্বক দ্রুত পানি হারায়। তাই ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধোয়ার পর ভেজা ত্বকেই ময়েশ্চারাইজার লাগানো উচিত। এতে ময়েশ্চারাইজার ত্বকের গভীরে ঢুকে পড়তে পারে, আর পানি লক হয়ে থাকে দীর্ঘক্ষণ।

ভেজা ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগানোর নিয়মটা মনে রাখবেন: মুখ ধোয়ার পর তোয়ালে দিয়ে আলতো করে চেপে পানি শুকিয়ে নিন, কিন্তু পুরোপুরি শুকিয়ে ফেলবেন না। তারপরই ময়েশ্চারাইজার অ্যাপ্লাই করুন। এতে ত্বক থাকবে হাইড্রেটেড, আর সারাদিনের ক্লান্তি কম লাগবে।

অয়েলি স্কিন বলে ময়েশ্চারাইজার বাদ দেওয়া

“আমার তো অয়েলি স্কিন, ময়েশ্চারাইজার লাগালে আরও তেলতেলে হয়ে যাবে”—এই ভুল ধারণাটা অনেকের মধ্যেই আছে। কিন্তু সত্যিটা হলো, অয়েলি স্কিনেও ময়েশ্চারাইজার লাগানো জরুরি। কারণ ত্বক যখন পানিশূন্য হয়ে পড়ে, তখন সেবাম (তেল) উৎপাদন বেড়ে যায়। ফলে ব্রণ, পোরস ব্লক হওয়া, আর চকচকে ভাব বাড়ে।

অয়েলি স্কিনের জন্য ওয়াটার-বেসড বা জেল-বেসড ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন। যেমন, যেগুলোতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, নিয়াসিনামাইড, বা স্যালিসাইলিক অ্যাসিড আছে, সেগুলো ত্বককে হাইড্রেট করবে আবার অতিরিক্ত তেলও কমাবে। COSRX-এর মতো ব্র্যান্ডের কিছু প্রোডাক্ট এই ধরনের স্কিনের জন্য ভালো কাজ করে।

মনে রাখবেন, ময়েশ্চারাইজার লাগানো মানে ত্বককে তেলতেলে করা নয়—বরং ত্বকের প্রাকৃতিক ব্যালেন্স বজায় রাখা। তাই অয়েলি স্কিন হলেও ময়েশ্চারাইজার বাদ দেবেন না।

মুখের ক্রিম সারা শরীরে (বা উল্টোটা) লাগানো

অনেকেই ভাবেন, মুখের জন্য যে ক্রিম ভালো, সেটাই সারা শরীরে লাগানো যাবে। আবার কেউ কেউ শরীরের লোশন মুখে লাগিয়ে ফেলেন। কিন্তু এই অভ্যাসটা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

মুখের ত্বক শরীরের ত্বকের চেয়ে অনেক বেশি সেনসিটিভ। তাই মুখের জন্য তৈরি ক্রিমে থাকা কিছু উপাদান (যেমন, রেটিনল, ভিটামিন সি) শরীরের ত্বকে লাগালে ইরিটেশন হতে পারে। আবার শরীরের লোশন মুখে লাগালে তা পোরস ব্লক করে ব্রণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

বাংলাদেশের আবহাওয়ায়, যেখানে রোদে পুড়ে শরীরের ত্বকও রুক্ষ হয়ে যায়, সেখানে আলাদা বডি লোশন ব্যবহার করা জরুরি। মুখের জন্য হালকা টেক্সচারের ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন, আর শরীরের জন্য একটু ভারী ফর্মুলার লোশন। এতে ত্বকের প্রতিটি অংশ সঠিক যত্ন পাবে।

ঋতু বদলালেও প্রোডাক্ট না বদলানো

বাংলাদেশে ঋতু বদলের সাথে সাথে আবহাওয়া বদলায়—গরমে ঘাম, শীতে শুষ্কতা, বর্ষায় আর্দ্রতা। কিন্তু অনেকেই একই ময়েশ্চারাইজার সারা বছর ব্যবহার করেন। এই অভ্যাসটা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।

গ্রীষ্মকালে ত্বক বেশি তেল উৎপাদন করে, তাই হালকা জেল-বেসড বা ওয়াটার-বেসড ময়েশ্চারাইজার ভালো কাজ করে। আবার শীতকালে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, তাই একটু ভারী ক্রিম বা অয়েল-বেসড ময়েশ্চারাইজার লাগানো উচিত। বর্ষাকালে ত্বক আর্দ্র থাকে, কিন্তু তখনও হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগানো জরুরি, কারণ আর্দ্রতা ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে ফেলে।

ঋতু বদলের সাথে সাথে ময়েশ্চারাইজার বদলানোর নিয়মটা মনে রাখবেন। এতে ত্বক সবসময় সুস্থ ও হাইড্রেটেড থাকবে।

ময়েশ্চারাইজারের পরিমাণ—খুব কম বা খুব বেশি

ময়েশ্চারাইজার লাগানোর সময় পরিমাণটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। খুব কম লাগালে ত্বক হাইড্রেটেড হয় না, আর বেশি লাগালে পোরস ব্লক হয়ে ব্রণ হতে পারে। তাই সঠিক পরিমাণটা জানা জরুরি।

সাধারণত, মুখের জন্য মটর দানার সমান ময়েশ্চারাইজার যথেষ্ট। যদি ত্বক খুব শুষ্ক হয়, তাহলে একটু বেশি নিতে পারেন। কিন্তু অতিরিক্ত লাগালে ত্বক ভারী লাগবে, আর প্রোডাক্টের অপচয় হবে।

বাংলাদেশের আবহাওয়ায়, যেখানে ত্বক দ্রুত পানি হারায়, সেখানে পরিমাণটা একটু বাড়াতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, বেশি ময়েশ্চারাইজার মানেই ভালো নয়—বরং সঠিক পরিমাণে লাগানোই জরুরি।

ঘাড় বাদ দেওয়া

অনেকেই মুখে ময়েশ্চারাইজার লাগান, কিন্তু ঘাড় বাদ দিয়ে যান। অথচ ঘাড়ের ত্বকও মুখের মতোই সেনসিটিভ, আর বয়সের ছাপ প্রথমে ঘাড়েই দেখা যায়। তাই ঘাড়ে ময়েশ্চারাইজার লাগানো বাদ দেওয়া উচিত নয়।

ময়েশ্চারাইজার লাগানোর সময় মুখ থেকে শুরু করে ঘাড় পর্যন্ত উপরের দিকে ম্যাসাজ করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন ভালো হবে, আর ত্বক টানটান থাকবে। ঘাড়ের ত্বক পাতলা হওয়ায় সেখানে সানস্ক্রিন লাগানোও জরুরি।

একটি অভ্যাস যেটা বাধ্যতামূলক: মুখের সাথে ঘাড়েও ময়েশ্চারাইজার লাগান। এতে ত্বক সুস্থ ও তারুণ্য ধরে রাখবে।

সাধারণ প্রশ্ন

ময়েশ্চারাইজার দিনে কতবার লাগানো উচিত?

সাধারণত দিনে দুবার ময়েশ্চারাইজার লাগানো ভালো—সকালে ও রাতে। তবে ত্বকের ধরন ও আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে এটা বাড়ানো বা কমানো যেতে পারে। যেমন, শুষ্ক ত্বকের জন্য দিনে তিনবার পর্যন্ত লাগানো যেতে পারে, আর অয়েলি স্কিনের জন্য সকালে একবারই যথেষ্ট।

ভেজা ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগানো ভালো কেন?

ভেজা ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগালে তা ত্বকের গভীরে ঢুকে পড়ে, আর পানি লক হয়ে থাকে। ফলে ত্বক দীর্ঘক্ষণ হাইড্রেটেড থাকে। শুকনো ত্বকে লাগালে ময়েশ্চারাইজার উপরে জমে থাকে, আর ত্বক রুক্ষ লাগে। তাই ভেজা ত্বকে লাগানোই ভালো।

একই ক্রিম কি সারা বছর চলে?

না, একই ক্রিম সারা বছর চলবে না। ঋতু বদলের সাথে সাথে ত্বকের প্রয়োজন বদলায়। গ্রীষ্মে হালকা ময়েশ্চারাইজার, শীতে ভারী ক্রিম, আর বর্ষায় মাঝারি টেক্সচারের প্রোডাক্ট ব্যবহার করা উচিত। তাই ঋতু বদলের সাথে সাথে ময়েশ্চারাইজারও বদলানো জরুরি।

Shop Related Products

View all products →