Skip to content
দ্রুত ডেলিভারি·COD·ঢাকায় পরের দিন·১০০% অথেনটিক

Sunscreen Guide

ছেলেদের স্কিনকেয়ার: ৩ ধাপের সহজ রুটিন যা আসলেই টিকবে

ছেলেদের ত্বকের যত্নে ৩ ধাপের সহজ রুটিন—ফেসওয়াশ, ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন। ঘাম, ধুলা ও শেভিংয়ের জ্বালা থেকে মুক্তি পান সহজেই।

By Hasan Tarafder, Founder · Emart
·

ঘামে ভেজা রিকশায় বসে অফিস যাচ্ছেন, আর তেলতেলে মুখটা আয়নায় দেখে মন খারাপ হয়ে যায়, তাই তো? কিংবা শেভ করার পর লাল হয়ে জ্বলে ওঠে গাল—এগুলো কি শুধু আপনারই সমস্যা? মোটেও না। বেশিরভাগ ছেলেই ভাবেন স্কিনকেয়ার মানে মেয়েদের ব্যাপার, কিন্তু সত্যিটা হলো, ছেলেদের ত্বকও সমান যত্ন চায়। শুধু পার্থক্য হলো, একটু অন্যরকম যত্ন।

আপনি হয়তো ভাবছেন, “রোজ রোজ এত কিছু মাখব কখন?” ভয় পাবেন না। আজকে আমরা এমন একটা রুটিন শিখব, যা মাত্র ৩ ধাপে আপনার ত্বককে রাখবে সতেজ, পরিষ্কার আর সুস্থ। আর এই রুটিন এতই সহজ যে, একবার অভ্যাস হয়ে গেলে আর ভুলতে পারবেন না। চলুন শুরু করা যাক।

ছেলেদের ত্বক আসলেই একটু আলাদা

ছেলেদের ত্বক মেয়েদের তুলনায় প্রায় ২৫% বেশি পুরু, কিন্তু তার মানে এই নয় যে যত্ন কম লাগে। বরং ছেলেদের ত্বকে সেবাম (তেল) বেশি তৈরি হয়, পোরসগুলো বড় থাকে, আর শেভিংয়ের কারণে ত্বক হয়ে যায় আরও সংবেদনশীল। ঢাকার গরমে ঘাম, ধুলা আর এসির শুষ্কতা—সব মিলিয়ে ত্বক হয়ে ওঠে আরও নাজুক।

তাই ছেলেদের স্কিনকেয়ার রুটিনে তিনটি জিনিস থাকা চাই: ক্লিনজিং, ময়েশ্চারাইজিং আর সান প্রোটেকশন। এই তিনটা ধাপই আপনার ত্বককে রাখবে সুস্থ, ব্রণমুক্ত আর বয়সের ছাপ থেকে দূরে।

ধাপ ১: ফেসওয়াশ — সাবান নয়

আপনি হয়তো এখনো গোসলের সময় সাবান দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলেন। কিন্তু সাবান ত্বকের প্রাকৃতিক তেল শুষে নেয়, ফলে ত্বক হয়ে যায় শুষ্ক আর রুক্ষ। তার চেয়ে ভালো হবে যদি আপনি একটা ভালো ফেসওয়াশ ব্যবহার করেন।

ছেলেদের জন্য ভালো ফেসওয়াশের মধ্যে থাকবে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড (ব্রণ কমাতে সাহায্য করে) বা নিয়াসিনামাইড (লালচে ভাব কমায়)। যদি ত্বক শুষ্ক হয়, তাহলে এমন ফেসওয়াশ বেছে নিন যাতে ময়েশ্চারাইজিং উপাদান থাকে। সকালে আর রাতে ঘুমানোর আগে—দিনে দুবার ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন।

একটা কথা মনে রাখবেন: ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। গরম পানি ত্বকের তেল শুষে নেয়, যা ত্বককে আরও শুষ্ক করে তোলে।

ধাপ ২: ময়েশ্চারাইজার — তেলতেলে লাগবে না, প্রমিজ

অনেক ছেলেই ভাবেন ময়েশ্চারাইজার মাখলে মুখ তেলতেলে হয়ে যাবে। কিন্তু সত্যিটা হলো, ময়েশ্চারাইজার ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে, ফলে তেল কম তৈরি হয়। আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত হয়, তাহলে জেল-বেসড বা ওয়াটার-বেসড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। আর যদি শুষ্ক হয়, তাহলে ক্রিম-বেসড ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন।

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের সবচেয়ে ভালো সময় হলো মুখ ধোয়ার পরপরই, যখন ত্বক একটু ভেজা থাকে। এতে ময়েশ্চারাইজার ভালোভাবে শোষিত হয়। সকালে আর রাতে—দিনে দুবার ময়েশ্চারাইজার লাগান।

যদি অফিসে এসি থাকে, তাহলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা আরও জরুরি। কারণ এসির শুষ্ক বাতাস ত্বকের আর্দ্রতা শুষে নেয়।

ধাপ ৩: সানস্ক্রিন — বাইক-রিকশা-মাঠ সবখানে

সানস্ক্রিন শুধু সমুদ্র সৈকতে বা রোদে বের হলেই লাগে না। আপনি বাইক চালান, রিকশায় যান, কিংবা অফিসের জানালার পাশে বসেন—সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি রশ্মি সবসময়ই আপনার ত্বককে ক্ষতি করে। এই রশ্মি ত্বকের বার্ধক্য ত্বরান্বিত করে, কালো দাগ তৈরি করে, এমনকি স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ায়।

ছেলেদের জন্য ভালো সানস্ক্রিন হবে কম তেলতেলে, SPF 30 বা তার বেশি, আর PA+++ রেটিংযুক্ত। সানস্ক্রিন লাগানোর ১৫ মিনিট পর বাইরে বের হবেন। আর যদি ঘাম হয় বা মুখ ধুয়ে ফেলেন, তাহলে ২-৩ ঘণ্টা পরপর আবার লাগান।

আপনি হয়তো ভাবছেন, “গরমে সানস্ক্রিন লাগালে আরও ঘাম হবে।” কিন্তু আজকাল অনেক সানস্ক্রিন আছে যা ঘাম প্রতিরোধী। তাই একটু খোঁজাখুঁজি করলেই আপনার জন্য উপযুক্ত সানস্ক্রিন পেয়ে যাবেন।

শেভিংয়ের পরে ত্বকের যত্ন

শেভিংয়ের পর ত্বক হয়ে যায় সংবেদনশীল। তাই শেভ করার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। তারপর একটা অ্যালকোহল-ফ্রি আফটারশেভ বাম বা ময়েশ্চারাইজার লাগান। যদি শেভের পর জ্বালা করে, তাহলে অ্যালোভেরা জেল বা নিয়াসিনামাইডযুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে পারেন।

শেভিংয়ের সময় সবসময় ধারালো ব্লেড ব্যবহার করুন। ভোঁতা ব্লেড ত্বকে টান দেয়, ফলে জ্বালা আর লালচে ভাব বেড়ে যায়। আর শেভ করার আগে মুখে একটু গরম পানির ভাপ দিলে পোরস খুলে যায়, ফলে শেভ করা সহজ হয়।

এই ৩ ধাপ অভ্যাস হলে তারপর কী

এই তিন ধাপের রুটিন যদি আপনার অভ্যাস হয়ে যায়, তাহলে তারপর আপনি চাইলে এক্সফোলিয়েশন, সিরাম বা আই ক্রিম যোগ করতে পারেন। কিন্তু শুরুতে এই তিনটা ধাপই যথেষ্ট।

এক্সফোলিয়েশন হলো ত্বকের মৃত কোষ দূর করার প্রক্রিয়া। সপ্তাহে ১-২ বার এক্সফোলিয়েট করলে ত্বক হয়ে ওঠে মসৃণ আর উজ্জ্বল। তবে বেশি এক্সফোলিয়েট করবেন না, তাহলে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আর যদি আপনার ত্বকে ব্রণ, কালো দাগ বা বলিরেখার সমস্যা থাকে, তাহলে আপনি সিরাম ব্যবহার করতে পারেন। যেমন, ভিটামিন সি সিরাম কালো দাগ কমাতে সাহায্য করে, আর হায়ালুরনিক অ্যাসিড ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে।

একটা কথা মনে রাখবেন: স্কিনকেয়ার হলো ধারাবাহিকতা। একদিন মাখলেন আর পরের দিন বাদ দিলেন—এতে কোনো লাভ হবে না। নিয়মিত যত্ন নিলেই ত্বক সুস্থ থাকবে।

সাধারণ প্রশ্ন

ছেলেদের কি আলাদা প্রোডাক্ট লাগে?

না, ছেলেদের জন্য আলাদা প্রোডাক্ট লাগে না। কিন্তু ছেলেদের ত্বক একটু পুরু হয়, তেল বেশি তৈরি হয়, আর শেভিংয়ের কারণে সংবেদনশীল হয়। তাই এমন প্রোডাক্ট বেছে নিন যা এই সমস্যাগুলো সমাধান করে। যেমন, তৈলাক্ত ত্বকের জন্য স্যালিসাইলিক অ্যাসিডযুক্ত ফেসওয়াশ বা শুষ্ক ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজিং ক্লিনজার

শেভের পর জ্বালা করলে কী দেব?

শেভের পর জ্বালা করলে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। তারপর অ্যালোভেরা জেল বা নিয়াসিনামাইডযুক্ত প্রোডাক্ট লাগান। যদি জ্বালা খুব বেশি হয়, তাহলে একটু হাইড্রোকর্টিসোন ক্রিম লাগাতে পারেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে জ্বালা থাকলে ডাক্তার দেখানো ভালো।

ছেলেদের জন্য কোন সানস্ক্রিন ভালো?

ছেলেদের জন্য ভালো সানস্ক্রিন হবে কম তেলতেলে, SPF 30 বা তার বেশি, আর PA+++ রেটিংযুক্ত। যেমন, জেল-বেসড সানস্ক্রিন বা ম্যাট ফিনিশ সানস্ক্রিন। ব্র্যান্ডের মধ্যে COSRX, La Roche-Posay, বা Neutrogena-এর সানস্ক্রিনগুলো ভালো। তবে আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী বেছে নিন।

একটি অভ্যাস যেটা বাধ্যতামূলক: সানস্ক্রিন লাগানো। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে বাঁচাতে সানস্ক্রিনের কোনো বিকল্প নেই।

Shop Related Products

View all products →