Sunscreen Guide
হাইপারপিগমেন্টেশন ও মেলাজমা: পার্থক্য বুঝে সঠিক যত্ন
মেলাজমা ও হাইপারপিগমেন্টেশনের পার্থক্য জানুন। সানস্ক্রিন, হরমোন ও ঘরোয়া যত্নের মাধ্যমে মেছতা নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায়।
মুখে কালো দাগ দেখলেই মন খারাপ হয়ে যায়, তাই না? বিশেষ করে যখন বুঝতে পারছেন না এটা সাধারণ দাগ নাকি মেছতা। আর সেই দাগ যদি বারবার ফিরে আসে, তাহলে তো কথাই নেই। আজকে আমরা জানবো হাইপারপিগমেন্টেশন আর মেলাজমার পার্থক্য, আর কীভাবে এগুলো থেকে মুক্তি পাবেন।
আপনার ত্বকের যত্ন নেওয়ার সময় হয়তো ভাবছেন, “এত কিছু মেনে চলার পরেও কেন দাগ কমছে না?” আসলে সব দাগ এক নয়। কিছু দাগ সহজে যায়, কিছু যায় না। আর মেছতা বা মেলাজমা হলো সেই জেদি দাগগুলোর মধ্যে অন্যতম। চলুন জেনে নেই কীভাবে এগুলো চিনবেন আর কীভাবে যত্ন নেবেন।
সব দাগ এক নয়: দাগ চেনার সহজ উপায়
মুখে দাগ হলে প্রথমেই বুঝতে হবে এটা কোন ধরনের দাগ। সাধারণ হাইপারপিগমেন্টেশন আর মেলাজমা দেখতে প্রায় একই রকম হলেও এদের কারণ আর চিকিৎসা আলাদা।
- হাইপারপিগমেন্টেশন: এটা সাধারণত ব্রণ, কাটাছেঁড়া, বা রোদে পোড়ার কারণে হয়। ছোট ছোট দাগ হিসেবে দেখা দেয়, যেগুলো সময়ের সাথে হালকা হয়ে যায়।
- মেলাজমা বা মেছতা: এটা বড় বড় ছোপ ছোপ দাগ হিসেবে দেখা দেয়, সাধারণত গাল, কপাল, নাক বা ঠোঁটের ওপরে। সূর্যের আলোতে গেলে আরও গাঢ় হয়ে যায়।
মেলাজমা চেনার সহজ উপায় হলো এর আকৃতি। সাধারণত এটা দুই গালে সমানভাবে দেখা দেয়, অনেকটা মাস্কের মতো। আর হাইপারপিগমেন্টেশন হলে দাগগুলো এলোমেলোভাবে থাকে।
মেছতা/মেলাজমা কেন এত জেদি
মেলাজমা সহজে যায় না কারণ এটা ত্বকের গভীর স্তরে বসে থাকে। সাধারণ হাইপারপিগমেন্টেশন যেখানে ত্বকের ওপরের স্তরে থাকে, সেখানে মেলাজমা ডার্মিস লেয়ারে গিয়ে বসে। তাই এটা দূর করতে সময় লাগে।
আরেকটা কারণ হলো মেলাজমা হরমোনের সাথে সম্পর্কিত। অনেক মহিলার গর্ভাবস্থায় বা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়ার সময় মেলাজমা দেখা দেয়। আবার রোদে গেলে এটা আরও খারাপ হয়ে যায়। ঢাকার মতো শহরে যেখানে সূর্যের তাপ আর দূষণ দুটোই বেশি, সেখানে মেলাজমা নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন।
হরমোন, রোদ আর জিনের ভূমিকা
মেলাজমার তিনটি প্রধান কারণ হলো হরমোন, রোদ আর জিন।
- হরমোন: ইস্ট্রোজেন আর প্রোজেস্টেরন হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মেলাজমা হতে পারে। গর্ভাবস্থায়, মেনোপজের সময়, বা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়ার সময় এটা দেখা দেয়।
- রোদ: সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি মেলাজমাকে আরও খারাপ করে। এমনকি অল্প সময়ের জন্যও রোদে গেলে দাগ গাঢ় হয়ে যায়। এসি অফিস থেকে বেরিয়ে রিকশায় যাওয়ার সময়ও সূর্যের আলো আপনার ত্বকে প্রভাব ফেলে।
- জিন: পরিবারে কারও মেলাজমা থাকলে আপনারও হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিশেষ করে ফর্সা ত্বকের মানুষের তুলনায় শ্যামলা বা বাদামি ত্বকের মানুষের মেলাজমা হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
ঘরে বসে যা করা সম্ভব (আর যা সম্ভব নয়)
মেলাজমা দূর করার জন্য ঘরে বসে কিছু কাজ করা যায়, তবে সবকিছু নয়। চলুন জেনে নেই কী করতে পারেন আর কী করতে পারবেন না।
- করতে পারেন:
- নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। SPF 30 বা তার বেশি হলে ভালো।
- নিয়াসিনামাইড, ভিটামিন সি, আর আলফা আরবুটিনযুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো দাগ হালকা করতে সাহায্য করে।
- ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন যাতে ত্বক শুষ্ক না হয়।
- রোদে বের হলে ছাতা, টুপি বা স্কার্ফ ব্যবহার করুন।
- করবেন না:
- লেবু বা বেকিং সোডার মতো ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করবেন না। এগুলো ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।
- অতিরিক্ত স্ক্রাবিং করবেন না। এতে ত্বক আরও সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে।
- অন্যের ব্যবহৃত ক্রিম ব্যবহার করবেন না। সবার ত্বক এক নয়।
মনে রাখবেন, ঘরে বসে মেলাজমা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। তবে নিয়মিত যত্ন নিলে এটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
সানস্ক্রিন ছাড়া মেলাজমার চিকিৎসা অর্থহীন
মেলাজমার চিকিৎসায় সানস্ক্রিন হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যতই ভালো ক্রিম বা ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করুন না কেন, সানস্ক্রিন না ব্যবহার করলে সব বৃথা।
সানস্ক্রিন বেছে নেওয়ার সময় খেয়াল রাখবেন:
- SPF 30 বা তার বেশি হলে ভালো।
- PA+++ থাকলে আরও ভালো, কারণ এটা UVA রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয়।
- জেল বা লোশন টাইপের সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন যদি আপনার ত্বক তৈলাক্ত হয়।
- দিনে অন্তত দুবার সানস্ক্রিন লাগান। বিশেষ করে বাইরে বের হলে।
ঢাকার মতো শহরে যেখানে সূর্যের তাপ প্রচণ্ড, সেখানে সানস্ক্রিন ছাড়া বের হওয়া মানে মেলাজমাকে আরও খারাপ করা। তাই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন, এমনকি ঘরে থাকলেও।
কখন ডার্মাটোলজিস্টের কাছে যাবেন
মেলাজমা যদি ঘরোয়া যত্নে না কমে, তাহলে ডার্মাটোলজিস্টের কাছে যাওয়াই ভালো। বিশেষ করে যদি:
- দাগগুলো খুব গাঢ় হয়ে যায় বা বড় হতে থাকে।
- ঘরোয়া যত্নে কোনো উন্নতি না হয়।
- ত্বকে জ্বালাপোড়া বা চুলকানি হয়।
- গর্ভাবস্থায় বা হরমোনাল পরিবর্তনের সময় দাগ দেখা দেয়।
ডার্মাটোলজিস্ট আপনাকে কিছু ট্রিটমেন্ট দিতে পারেন, যেমন:
- হাইড্রোকুইনোন ক্রিম
- কেমিক্যাল পিল
- লেজার ট্রিটমেন্ট
তবে মনে রাখবেন, কোনো ট্রিটমেন্টই একেবারে স্থায়ী সমাধান নয়। নিয়মিত যত্ন আর সানস্ক্রিন ব্যবহারই মেলাজমা নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি।
একটি অভ্যাস যেটা বাধ্যতামূলক: প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন, এমনকি ঘরে থাকলেও।
সাধারণ প্রশ্ন
মেছতা কি একেবারে ভালো হয়?
মেছতা পুরোপুরি ভালো না হলেও নিয়মিত যত্ন নিলে এটা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। হরমোনাল পরিবর্তন বা রোদে গেলে আবার ফিরে আসতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে যত্ন নিতে হবে।
মেছতার জন্য কোন ক্রিম ভালো?
মেছতার জন্য নিয়াসিনামাইড, ভিটামিন সি, বা আলফা আরবুটিনযুক্ত ক্রিম ভালো কাজ করে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে ক্রিম ব্যবহার করা। নিজে নিজে কোনো ক্রিম ব্যবহার করবেন না।
রোদে গেলে কি মেছতা বাড়ে?
হ্যাঁ, রোদে গেলে মেছতা বাড়ে। সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি মেলাজমাকে আরও গাঢ় করে তোলে। তাই রোদে বের হলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
Shop Related Products

M.A.C Studio Fix Fluid SPF 15 Foundation (30ml)
৳2,860

Skin Aqua Super Moisture Barrier UV Gel SPF 50+ PA++++ 100g
৳1,490

Muuchstac Ocean Moisturizer & Sunscreen SPF 18+ (45ml)
৳450

Maybelline Baby Lips Color Lip Balm Berry Crush SPF 20
৳369