Skip to content
দ্রুত ডেলিভারি·COD·ঢাকায় পরের দিন·১০০% অথেনটিক

Hydration Guide

হায়ালুরনিক অ্যাসিড: শুষ্ক ত্বকের হাইড্রেশন গাইড

হায়ালুরনিক অ্যাসিড কীভাবে শুষ্ক ত্বককে গভীরভাবে হাইড্রেট করে? জেনে নিন ব্যবহারবিধি, কোন ফর্মে নেবেন ও অয়েলি স্কিনের জন্য উপকারিতা।

By Hasan Tarafder, Founder · Emart
·

শীতে চামড়া টানটান, গ্রীষ্মে ঘামে ভিজে ত্বক খসখসে— এই সমস্যাটা আপনারও, তাই না? সারাদিন এসি অফিসে বসে থাকলে বা ঢাকার ধুলোবালিতে রিকশা করে ফিরলে ত্বক যেন পানির জন্য হাহাকার করে। ময়েশ্চারাইজার লাগিয়েও কাজ হয় না, তাই তো? আজকে এমন একটা উপাদানের কথা বলব যা আপনার ত্বকের এই পানির তৃষ্ণা মেটাতে পারে।

হায়ালুরনিক অ্যাসিড— নামটা শুনতে ভয়ংকর লাগলেও এটা আসলে আপনার ত্বকের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। এক গ্রাম হায়ালুরনিক অ্যাসিড ছয় লিটার পানি ধরে রাখতে পারে! মানে, এটা আপনার ত্বকের ভেতর পানির মজুদ বাড়িয়ে দেয়, যাতে শুষ্কতা আর টানটান ভাব দূর হয়। চলুন জেনে নেই কীভাবে এই ম্যাজিক উপাদানটা আপনার স্কিনকেয়ার রুটিনে জায়গা করে নিতে পারে।

অ্যাসিড নাম শুনে ভয়? এটা আসলে পানির চুম্বক

হায়ালুরনিক অ্যাসিড (হায়ালুরনিক অ্যাসিড) শুনতে কেমিক্যাল মনে হলেও এটা আসলে আমাদের শরীরেই প্রাকৃতিকভাবে থাকে। ত্বক, চোখ, এমনকি জয়েন্টেও এটা পাওয়া যায়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে এর পরিমাণ কমে যায়, ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, বলিরেখা পড়ে। এজন্যই বাইরে থেকে হায়ালুরনিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

এটা কাজ করে একটা স্পঞ্জের মতো— ত্বকের উপরিভাগে পানি ধরে রেখে হাইড্রেশন বাড়ায়। ধরুন, আপনি গরমে ঘেমে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি খেলেন। হায়ালুরনিক অ্যাসিড ঠিক তেমনই, ত্বকের ভেতর পানির স্তর বাড়িয়ে দেয়। তবে মনে রাখবেন, এটা ময়েশ্চারাইজার নয়— বরং হাইড্রেটর। মানে, পানি টেনে রাখে, কিন্তু সিল করে না।

ভেজা ত্বকে লাগানোই আসল নিয়ম

হায়ালুরনিক অ্যাসিডের সবচেয়ে বড় ট্রিক হলো এটা ভেজা ত্বকে লাগাতে হয়। কেন? কারণ এটা বাতাস থেকে পানি টেনে নেয়। যদি ত্বক শুকনো থাকে, তাহলে এটা আপনার ত্বকের নিজস্ব পানিই টেনে নিতে পারে— ফলে উল্টো ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যায়। তাই ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে, টোনার বা পানি দিয়ে মুখ ভেজা অবস্থায় হায়ালুরনিক অ্যাসিড সিরাম লাগান।

ঢাকার মতো শহরে যেখানে বাতাসে আর্দ্রতা কম, সেখানে এই নিয়মটা আরও জরুরি। আপনি যদি এসি রুমে থাকেন, তাহলে ত্বক থেকে পানি বের হয়ে যায়। তাই হায়ালুরনিক অ্যাসিড লাগানোর আগে মুখে পানি স্প্রে করে নিন বা ভেজা হাত দিয়ে মুখ মুছে নিন। এতে সিরামটা ঠিকমতো কাজ করবে।

এসি রুমে সারাদিন: ত্বক ডিহাইড্রেটেড হয় যেভাবে

আপনি কি জানেন, এসি শুধু ঘর ঠান্ডা করে না, ত্বক থেকেও পানি টেনে নেয়? অফিসে বা বাসায় সারাদিন এসি চালিয়ে থাকলে ত্বক ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়। এর লক্ষণগুলো হলো— ত্বক টানটান লাগা, লালচে ভাব, বা মাঝে মাঝে চুলকানি। অনেকেই ভাবেন এটা শুষ্ক ত্বকের সমস্যা, কিন্তু আসলে এটা ডিহাইড্রেশন।

হায়ালুরনিক অ্যাসিড এই ডিহাইড্রেশন রোধ করতে পারে। এটা ত্বকের উপরিভাগে পানির স্তর তৈরি করে, যাতে এসির শুষ্ক বাতাস ত্বককে সরাসরি আক্রমণ করতে না পারে। তবে শুধু হায়ালুরনিক অ্যাসিডেই কাজ হবে না— এর সাথে একটা ভালো ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে, যেটা নিয়ে পরের সেকশনে বলছি।

সিরাম, টোনার নাকি ময়েশ্চারাইজার: কোন ফর্মে নেবেন

হায়ালুরনিক অ্যাসিড পাওয়া যায় নানা ফর্মে— সিরাম, টোনার, ময়েশ্চারাইজার, এমনকি শিট মাস্কেও। কিন্তু কোনটা আপনার জন্য ভালো?

  • সিরাম: সবচেয়ে বেশি কনসেন্ট্রেটেড ফর্ম। হালকা, ত্বকে দ্রুত শোষিত হয়। যাদের ত্বক খুব শুষ্ক বা ডিহাইড্রেটেড, তাদের জন্য বেস্ট।
  • টোনার: ক্লিনজিংয়ের পর ব্যবহার করা যায়। হালকা হাইড্রেশন দেয়, কিন্তু সিরামের মতো গভীরভাবে কাজ করে না।
  • ময়েশ্চারাইজার: যারা আলাদা সিরাম ব্যবহার করতে চান না, তাদের জন্য ভালো। তবে মনে রাখবেন, হায়ালুরনিক অ্যাসিড ময়েশ্চারাইজার ত্বককে সিল করে না— শুধু হাইড্রেট করে।
  • শিট মাস্ক: সপ্তাহে এক-দুইবার ব্যবহার করতে পারেন। ত্বককে ইনস্ট্যান্ট হাইড্রেশন দেয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়।

আমার পরামর্শ হলো, প্রথমে সিরাম ব্যবহার করুন, তারপর ময়েশ্চারাইজার দিয়ে সিল করে দিন। এতে হাইড্রেশন লক হয়ে থাকবে।

অয়েলি স্কিনেও হাইড্রেশন লাগে

অনেকেই ভাবেন, অয়েলি স্কিনে হাইড্রেশন লাগে না। কিন্তু এটা একটা বড় ভুল ধারণা। অয়েলি স্কিন মানে এই নয় যে ত্বক হাইড্রেটেড আছে। আসলে, ত্বক যখন ডিহাইড্রেটেড হয়, তখন সেবাম (তেল) বেশি উৎপন্ন করে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। ফলে পোরস ব্লক হয়ে ব্রণ হয়।

হায়ালুরনিক অ্যাসিড অয়েলি স্কিনের জন্য পারফেক্ট কারণ এটা ওয়াটার-বেসড, তেল নয়। তাই এটা ত্বককে হাইড্রেট করবে, কিন্তু চিটচিটে ভাব আনবে না। আপনি যদি অয়েলি স্কিনের হন, তাহলে হালকা জেল-বেসড ময়েশ্চারাইজার বা হায়ালুরনিক অ্যাসিড সিরাম ব্যবহার করতে পারেন।

ঢাকার গরমে ঘাম আর তেল মিলে ত্বক আরও খারাপ হয়ে যায়। তাই অয়েলি স্কিনের মানুষদেরও হাইড্রেশন জরুরি। শুধু ক্লিনজিং আর টোনিংয়ে কাজ হবে না— হায়ালুরনিক অ্যাসিড দিয়ে ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্ট করতে হবে।

সিল করতে ভুলবেন না

হায়ালুরনিক অ্যাসিড ত্বকে পানি টেনে রাখে, কিন্তু সেটা ধরে রাখতে পারে না। মানে, পানি আবার বাষ্প হয়ে উড়ে যেতে পারে। তাই এটা লাগানোর পর একটা ময়েশ্চারাইজার দিয়ে সিল করে দিতে হয়। এটাকে বলে “ময়েশ্চার লকিং”।

ময়েশ্চারাইজার হিসেবে আপনি ক্রিম বা জেল ব্যবহার করতে পারেন। যাদের ত্বক শুষ্ক, তারা সেরামাইড বা স্কোয়ালেনযুক্ত ক্রিম নিতে পারেন। অয়েলি স্কিনের জন্য হালকা জেল-বেসড ময়েশ্চারাইজার ভালো। ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পর সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবেন না— কারণ সূর্যের আলো ত্বকের হাইড্রেশন নষ্ট করে দেয়।

একটা ছোট্ট টিপস: রাতে হায়ালুরনিক অ্যাসিড সিরাম লাগিয়ে তার উপর ময়েশ্চারাইজার দিয়ে ঘুমাতে পারেন। এতে সকালে ত্বক থাকবে নরম ও কোমল।

একটি অভ্যাস যেটা বাধ্যতামূলক

হায়ালুরনিক অ্যাসিড ব্যবহার করার সময় সবচেয়ে জরুরি অভ্যাস হলো— ভেজা ত্বকে লাগানো। শুকনো ত্বকে লাগালে উল্টো ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যাবে। তাই ক্লিনজিংয়ের পর মুখে পানি বা টোনার দিয়ে ভিজিয়ে নিন, তারপর সিরাম লাগান। এটা মনে রাখলেই আপনার ত্বক থাকবে হাইড্রেটেড ও সুস্থ।

সাধারণ প্রশ্ন

হায়ালুরনিক অ্যাসিড কি প্রতিদিন ব্যবহার করা যায়?

হ্যাঁ, হায়ালুরনিক অ্যাসিড খুবই নিরাপদ এবং প্রতিদিন ব্যবহার করা যায়। এটা ত্বকের প্রাকৃতিক উপাদান, তাই এতে কোনো ইরিটেশন হয় না। তবে প্রথমবার ব্যবহার করলে প্যাচ টেস্ট করে নিন। সকালে ও রাতে দুবারই ব্যবহার করতে পারেন।

অয়েলি স্কিনে ব্যবহার করা যাবে?

অবশ্যই! হায়ালুরনিক অ্যাসিড ওয়াটার-বেসড, তাই এটা অয়েলি স্কিনের জন্য পারফেক্ট। এটা ত্বককে হাইড্রেট করবে, কিন্তু চিটচিটে ভাব আনবে না। বরং ত্বক ডিহাইড্রেটেড হলে সেবাম বেশি উৎপন্ন হয়— হায়ালুরনিক অ্যাসিড এটা কমাতে সাহায্য করে।

কোন ধাপে লাগাতে হয়?

হায়ালুরনিক অ্যাসিড লাগানোর সঠিক ধাপ হলো— ক্লিনজিং → টোনিং → হায়ালুরনিক অ্যাসিড সিরাম → ময়েশ্চারাইজার → সানস্ক্রিন (দিনের বেলা)। মনে রাখবেন, সিরাম সবসময় ভেজা ত্বকে লাগাতে হয়। ময়েশ্চারাইজার দিয়ে সিল করে দিলে হাইড্রেশন লক হয়ে থাকবে।

Shop Related Products

View all products →