Skip to content
দ্রুত ডেলিভারি·COD·ঢাকায় পরের দিন·১০০% অথেনটিক

Sunscreen Guide

ডাবল ক্লিনজিং: কেন, কখন আর কীভাবে করবেন

সানস্ক্রিন লাগিয়েছেন, মেকআপ করেছেন—দিনশেষে মুখ ধুয়ে দেখলেন আয়নায় এখনও কিছুটা চকচক করছে। কিংবা অফিস থেকে ফিরে ক্লিনজার দিয়ে ধুয়েও মনে হচ্ছে মুখটা…

By Hasan Tarafder, Founder · Emart
·

সানস্ক্রিন লাগিয়েছেন, মেকআপ করেছেন—দিনশেষে মুখ ধুয়ে দেখলেন আয়নায় এখনও কিছুটা চকচক করছে। কিংবা অফিস থেকে ফিরে ক্লিনজার দিয়ে ধুয়েও মনে হচ্ছে মুখটা পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি। এমনটা কি আপনার সঙ্গেও হয়? তাহলে বুঝতে হবে, একবার ধুলেই সব ময়লা উঠছে না। আর এখানেই ডাবল ক্লিনজিংয়ের জাদু কাজ করে।

ঢাকার গরমে রিকশা থেকে নেমে, বাসের ধুলোয় মাখামাখি হয়ে, আবার এসি অফিসের শুষ্কতায়—আমাদের ত্বক প্রতিদিন কত কিছুই না সহ্য করে। এর ওপর সানস্ক্রিন, মেকআপ, বা শহরের দূষণ তো আছেই। একবার ধুলেই সব উঠে যাবে—এমন ভাবলে ভুল করবেন। ত্বকের গভীরে জমে থাকা ময়লা, তেল, আর দূষণের কণা কিন্তু রয়েই যায়। আর এগুলোই ধীরে ধীরে পোরস ব্লক করে, ব্রণ বাড়ায়, ত্বককে নিস্তেজ করে দেয়। তাই আজকে আমরা জানবো ডাবল ক্লিনজিং কী, কেন দরকার, আর কীভাবে সঠিকভাবে করবেন—যাতে আপনার ত্বক থাকে সত্যিকার অর্থেই পরিষ্কার আর সুস্থ।

এক ওয়াশে সানস্ক্রিন পুরোটা ওঠে না—কেন?

আপনি হয়তো ভাবছেন, “আমি তো রেগুলার ক্লিনজারই ব্যবহার করি, তাহলে আর কী দরকার?” কিন্তু সানস্ক্রিন, মেকআপ বা সেবাম (ত্বকের প্রাকৃতিক তেল) তেলে দ্রবণীয়। সাধারণ ফোম বা জেল ক্লিনজার পানিতে দ্রবণীয় ময়লা পরিষ্কার করে ঠিকই, কিন্তু তেলভিত্তিক ময়লা পুরোপুরি তুলতে পারে না। ফলে কিছুটা ময়লা থেকে যায়, যা পোরস ব্লক করে, ব্রণ বাড়ায়, আর ত্বককে নিস্তেজ করে দেয়।

ধরুন, আপনি সারাদিন SPF 50 PA+++ সানস্ক্রিন ব্যবহার করেছেন। সন্ধ্যায় মুখ ধুয়ে দেখলেন, এখনও কিছুটা চকচক করছে। এর মানে হলো, সানস্ক্রিনের তেলভিত্তিক উপাদানগুলো ত্বকে রয়ে গেছে। এগুলোই ধীরে ধীরে পোরস ব্লক করে, ত্বককে রুক্ষ করে তোলে। ডাবল ক্লিনজিং এই সমস্যাটাই সমাধান করে—প্রথম ধাপে তেলভিত্তিক ময়লা, দ্বিতীয় ধাপে পানিভিত্তিক ময়লা পরিষ্কার করে।

ধাপ ১: অয়েল বা বাম—তেল দিয়ে তেল তোলা

ডাবল ক্লিনজিংয়ের প্রথম ধাপ হলো অয়েল বা বাম ক্লিনজার ব্যবহার করা। এর কাজ হলো ত্বকে জমে থাকা সানস্ক্রিন, মেকআপ, সেবাম আর দূষণের কণা গলিয়ে তোলা। অয়েল ক্লিনজার তেলে দ্রবণীয় ময়লা পরিষ্কার করে, যা সাধারণ ক্লিনজার পারে না।

অয়েল ক্লিনজার ব্যবহার করা খুবই সহজ। প্রথমে শুকনো মুখে অয়েল বা বাম ক্লিনজার লাগান। আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো করে মাসাজ করুন—বিশেষ করে যেখানে মেকআপ বা সানস্ক্রিন বেশি লেগে থাকে (চোখের চারপাশ, নাকের দুপাশ)। তারপর হালকা গরম পানি দিয়ে ভিজিয়ে আবার মাসাজ করুন। দেখবেন, ময়লা গলে গলে উঠে আসছে। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

অয়েল ক্লিনজার হিসেবে আপনি তেল (যেমন জোজোবা অয়েল, গ্রেপসিড অয়েল) বা বাজারে পাওয়া অয়েল ক্লিনজার (যেমন COSRX লো পিএইচ গুড মর্নিং জেল ক্লিনজার নয়, বরং অয়েল-বেসড ক্লিনজার) ব্যবহার করতে পারেন। বাম ক্লিনজারও ভালো কাজ করে, বিশেষ করে যাদের ত্বক শুষ্ক বা সেনসিটিভ।

ধাপ ২: ফোম বা জেল—বাকিটা পরিষ্কার

প্রথম ধাপ শেষ হওয়ার পর ত্বক থেকে তেলভিত্তিক ময়লা উঠে গেলেও, পানিতে দ্রবণীয় ময়লা (যেমন ঘাম, ধুলা) রয়ে যায়। দ্বিতীয় ধাপে ফোম বা জেল ক্লিনজার ব্যবহার করে এই ময়লাগুলো পরিষ্কার করতে হবে।

ফোম ক্লিনজার হালকা ফেনা তৈরি করে, যা ত্বকের গভীরে গিয়ে ময়লা পরিষ্কার করে। জেল ক্লিনজারও ভালো কাজ করে, বিশেষ করে যাদের ত্বক তেলতেলে বা ব্রণপ্রবণ। এই ধাপে ক্লিনজারটি ভালোভাবে মাসাজ করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক এখন পুরোপুরি পরিষ্কার, আর ময়েশ্চারাইজার বা সিরাম লাগানোর জন্য প্রস্তুত।

এই ধাপে এমন ক্লিনজার বেছে নিন যা আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী। যেমন, তেলতেলে ত্বকের জন্য স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা নিয়াসিনামাইড যুক্ত ক্লিনজার ভালো কাজ করে। শুষ্ক ত্বকের জন্য হাইড্রেটিং জেল ক্লিনজার বেছে নিন।

কাদের প্রতিদিন দরকার, কাদের নয়

ডাবল ক্লিনজিং সবার জন্য নয়। আপনার ত্বকের ধরন, রুটিন, আর পরিবেশের ওপর নির্ভর করে এটি কতটা দরকার।

  • যাদের প্রতিদিন দরকার: যারা নিয়মিত মেকআপ বা সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন, শহরের দূষণে থাকেন, বা ত্বক তেলতেলে—তাদের জন্য ডাবল ক্লিনজিং প্রতিদিনই দরকার। এতে ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার হয়, ব্রণ কমে, আর পোরস ক্লিন থাকে।
  • যাদের মাঝেমধ্যে দরকার: যারা মেকআপ বা সানস্ক্রিন মাঝেমধ্যে ব্যবহার করেন, বা গ্রামে থাকেন—তাদের জন্য ডাবল ক্লিনজিং প্রতিদিন না করলেও চলে। সপ্তাহে ২-৩ বার করলেই হবে।
  • যাদের দরকার নেই: যাদের ত্বক খুব শুষ্ক বা সেনসিটিভ, বা যারা মেকআপ/সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন না—তাদের জন্য ডাবল ক্লিনজিং দরকার নেই। এতে ত্বক আরও শুষ্ক বা ইরিটেটেড হয়ে যেতে পারে।

তবে মনে রাখবেন, ডাবল ক্লিনজিং মানেই ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক করা নয়। সঠিক প্রোডাক্ট বেছে নিলে ত্বক পরিষ্কার হবে, কিন্তু শুষ্ক বা টাইট হবে না।

অয়েলি ও ব্রণপ্রবণ ত্বকে অয়েল ক্লিনজার: ভয় ভাঙুন

অনেকেই ভাবেন, “আমার ত্বক তো তেলতেলে, তাহলে অয়েল ক্লিনজার ব্যবহার করলে ব্রণ বেড়ে যাবে না?” এই ভয়টা একেবারেই অমূলক। অয়েল ক্লিনজার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল (সেবাম) গলিয়ে পরিষ্কার করে, কিন্তু ব্রণ বাড়ায় না। বরং, ত্বকের গভীরে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে ব্রণ কমাতে সাহায্য করে।

অয়েলি বা ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য এমন অয়েল ক্লিনজার বেছে নিন যা নন-কমেডোজেনিক (অর্থাৎ পোরস ব্লক করবে না)। যেমন, জোজোবা অয়েল বা গ্রেপসিড অয়েল। এগুলো ত্বকের তেলের ভারসাম্য বজায় রাখে, ব্রণ বাড়ায় না।

তবে হ্যাঁ, যদি আপনার ত্বক খুব সেনসিটিভ হয়, বা কোনো নির্দিষ্ট অয়েলে অ্যালার্জি থাকে, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। অয়েল ক্লিনজার ব্যবহার করার পর যদি ত্বক লাল হয়ে যায় বা চুলকায়, তাহলে সেটা ব্যবহার বন্ধ করুন।

৩ মিনিটের সঠিক টেকনিক

ডাবল ক্লিনজিংয়ের সঠিক টেকনিক জানা খুবই জরুরি। ভুলভাবে করলে ত্বক শুষ্ক বা ইরিটেটেড হয়ে যেতে পারে। তাই এই ধাপগুলো মেনে চলুন:

  1. প্রথম ধাপ (অয়েল/বাম ক্লিনজার):
    • শুকনো মুখে অয়েল বা বাম ক্লিনজার লাগান।
    • আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো করে ১ মিনিট মাসাজ করুন। চোখের চারপাশ, নাকের দুপাশ, কপাল—সব জায়গায় ভালোভাবে মাসাজ করুন।
    • হালকা গরম পানি দিয়ে ভিজিয়ে আবার ৩০ সেকেন্ড মাসাজ করুন।
    • পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  2. দ্বিতীয় ধাপ (ফোম/জেল ক্লিনজার):
    • ভেজা মুখে ফোম বা জেল ক্লিনজার লাগান।
    • আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো করে ১ মিনিট মাসাজ করুন।
    • পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  3. শেষ ধাপ:
    • মুখে পাতলা তোয়ালে দিয়ে চেপে চেপে পানি শুকিয়ে নিন। ঘষবেন না।
    • এরপর ময়েশ্চারাইজার বা সিরাম লাগান।

পুরো প্রক্রিয়াটা ৩ মিনিটের বেশি লাগবে না। কিন্তু এই ৩ মিনিটেই আপনার ত্বক হয়ে উঠবে গভীরভাবে পরিষ্কার, আর স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টগুলো আরও ভালোভাবে কাজ করবে।

সাধারণ প্রশ্ন

ডাবল ক্লিনজিং কি রোজ করতে হবে?

এটা নির্ভর করে আপনার ত্বকের ধরন আর রুটিনের ওপর। যদি আপনি নিয়মিত মেকআপ বা সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন, বা শহরের দূষণে থাকেন—তাহলে রোজ ডাবল ক্লিনজিং করাই ভালো। কিন্তু যদি আপনার ত্বক শুষ্ক বা সেনসিটিভ হয়, বা মেকআপ/সানস্ক্রিন ব্যবহার না করেন—তাহলে সপ্তাহে ২-৩ বার করলেই হবে।

মেকআপ না করলেও লাগবে?

হ্যাঁ, লাগবে। কারণ সানস্ক্রিন, দূষণ, ঘাম—এগুলোও ত্বকের গভীরে জমে থাকে। মেকআপ না করলেও ডাবল ক্লিনজিং করলে ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার হয়, ব্রণ কমে, আর ত্বক থাকে সুস্থ। তবে যদি আপনি সানস্ক্রিন বা মেকআপ ব্যবহার না করেন, তাহলে সপ্তাহে ২-৩ বার ডাবল ক্লিনজিং করলেই যথেষ্ট।

অয়েল ক্লিনজারে কি ব্রণ হয়?

না, অয়েল ক্লিনজার ব্রণ বাড়ায় না। বরং, ত্বকের গভীরে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে ব্রণ কমাতে সাহায্য করে। তবে যদি আপনার ত্বক

Shop Related Products

View all products →