Skip to content
দ্রুত ডেলিভারি·COD·ঢাকায় পরের দিন·১০০% অথেনটিক

Sunscreen Guide

ব্রণ নিয়ে ৭টি ভুল ধারণা যা ত্বকের আরও ক্ষতি করছে

ব্রণ হলে কী করা উচিত না? জেনে নিন ৭টি ভুল ধারণা যা ত্বকের আরও ক্ষতি করছে। সঠিক স্কিনকেয়ার রুটিন মেনে ব্রণ নিয়ন্ত্রণ করুন।

By Hasan Tarafder, Founder · Emart
·

ব্রণ নিয়ে মন খারাপ লাগে, তাই না? অফিস থেকে ফিরে আয়নায় তাকালেই সেই লাল দাগগুলো দেখে মেজাজটা একেবারে খারাপ হয়ে যায়। আর চারপাশ থেকে নানা রকম পরামর্শ তো আছেই—”টুথপেস্ট লাগাও”, “বেশি করে মুখ ধোও”, “মেকআপ বন্ধ করো”—কিন্তু এগুলো কি আসলেই কাজ করে? নাকি উল্টো ত্বকের আরও ক্ষতি করছে?

আজকে আমরা এমন ৭টি ভুল ধারণা নিয়ে কথা বলব, যেগুলো হয়তো আপনিও বিশ্বাস করেন। কিন্তু এগুলো ব্রণ কমাতে তো সাহায্য করেই না, বরং ত্বকের অবস্থা আরও খারাপ করে দেয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক, ব্রণ হলে কী করা উচিত না এবং কোন অভ্যাসগুলো বদলানো জরুরি।

টুথপেস্ট লাগালে ব্রণ শুকায়—এই ধারণা কেন ভুল?

অনেকেই বলেন, “টুথপেস্ট লাগাও, ব্রণ তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে।” কিন্তু এই পরামর্শটা আসলে কতটা সঠিক? টুথপেস্টে থাকে ট্রাইক্লোসান, ফ্লোরাইড, এবং মেনথল—এগুলো ত্বকের জন্য বেশ ক্ষতিকর। বিশেষ করে সেনসিটিভ স্কিনে জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব, এমনকি র‍্যাশও হতে পারে।

ব্রণ শুকাতে চাইলে বরং স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা নিয়াসিনামাইডযুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন। এগুলো ত্বকের পোরস পরিষ্কার করে এবং ইনফ্লামেশন কমায়। টুথপেস্টের মতো ঘরোয়া উপায়ে বিশ্বাস না করে, একটু বিজ্ঞানসম্মত স্কিনকেয়ার রুটিন মেনে চলুন।

বেশি ধুলে ব্রণ কমে—এই ভুল ধারণা কেন বিপজ্জনক?

অনেকেই মনে করেন, ব্রণ হলে বারবার মুখ ধুলে সমস্যা কমবে। কিন্তু এটা একেবারেই ভুল! বেশি ধুলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল (সেবাম) ধুয়ে যায়, ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে। আর ত্বক যখন শুষ্ক হয়, তখন সেবাম উৎপাদন আরও বেড়ে যায়—যার ফলে নতুন ব্রণ তৈরি হয়।

বিশেষ করে ঢাকার মতো শহরে, যেখানে ধুলাবালি আর দূষণের শেষ নেই, সেখানে বারবার মুখ ধোয়া মানে ত্বকের প্রাকৃতিক বাধা নষ্ট করা। দিনে দুবার—সকালে আর রাতে—হালকা ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এর বেশি নয়।

অয়েলি স্কিনে ময়েশ্চারাইজার লাগে না—এই মিথ কেন ভুল?

অয়েলি স্কিন মানেই কি ময়েশ্চারাইজার লাগবে না? একদমই না! ময়েশ্চারাইজার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে, যা সব ধরনের ত্বকের জন্যই জরুরি। অয়েলি স্কিনে যদি ময়েশ্চারাইজার না লাগান, তাহলে ত্বক আরও বেশি সেবাম উৎপাদন করে—যার ফলে ব্রণ বাড়তে পারে।

অয়েলি স্কিনের জন্য ওয়াটার-বেসড বা জেল-বেসড ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন। যেমন, হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত প্রোডাক্টগুলো বেশ কার্যকর। মনে রাখবেন, ময়েশ্চারাইজার লাগানো মানে ত্বককে আরও তেলতেলে করা নয়—বরং ত্বককে সুস্থ রাখা।

ব্রণ খুঁটলে তাড়াতাড়ি যায়—এই অভ্যাস কেন ক্ষতিকর?

ব্রণ খোঁটার লোভ সামলানো কঠিন, তাই না? কিন্তু এই অভ্যাসটা ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ব্রণ খোঁটলে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ে, দাগ পড়ে যায়, এমনকি নতুন ব্রণও তৈরি হয়। এছাড়া, আঙুলের জীবাণু ত্বকে লেগে ইনফ্লামেশন বাড়িয়ে দেয়।

যদি ব্রণ খুবই বিরক্তিকর লাগে, তাহলে স্যালিসাইলিক অ্যাসিডযুক্ত স্পট ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করুন। আর যদি ব্রণ খুব বড় বা ব্যথা হয়, তাহলে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন। নিজে থেকে খোঁটাখুঁটি করবেন না—এতে দাগ পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

রোদ ব্রণ শুকিয়ে দেয়—এই ধারণা কেন ভুল?

অনেকেই মনে করেন, রোদে থাকলে ব্রণ শুকিয়ে যায়। কিন্তু এটা একেবারেই ভুল! রোদে থাকলে ত্বক শুষ্ক হয় ঠিকই, কিন্তু এর ফলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল উৎপাদন বেড়ে যায়—যার ফলে নতুন ব্রণ তৈরি হয়। এছাড়া, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করে, দাগ পড়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।

ব্রণ হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। SPF 30 বা তার বেশি এবং PA+++ রেটিংযুক্ত সানস্ক্রিন বেছে নিন। এতে ত্বক সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পাবে, এবং ব্রণও বাড়বে না।

দামি প্রোডাক্ট মানেই ভালো—এই বিশ্বাস কেন ঝুঁকিপূর্ণ?

অনেকেই মনে করেন, দামি প্রোডাক্ট মানেই ভালো। কিন্তু এটা সবসময় সত্য নয়। দামি প্রোডাক্টে অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় উপাদান থাকে, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আবার অনেক সস্তা প্রোডাক্টেও কার্যকর উপাদান থাকে।

প্রোডাক্ট কেনার আগে উপাদানগুলো দেখে নিন। স্যালিসাইলিক অ্যাসিড, নিয়াসিনামাইড, জিঙ্ক—এগুলো ব্রণের জন্য কার্যকর। ব্র্যান্ডের দাম নয়, উপাদানই আসল। তাই প্রোডাক্ট কেনার সময় লেবেল পড়ুন, এবং নিজের ত্বকের ধরন বুঝে বেছে নিন।

মেকআপ করলেই ব্রণ হয়—এই ধারণা কতটা সঠিক?

মেকআপ মানেই ব্রণ হবে—এটা একটা বড় ভুল ধারণা। মেকআপ ব্রণ বাড়ায় না, যদি সঠিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন এবং সঠিকভাবে ক্লিন করেন। তবে নন-কমেডোজেনিক (যা পোরস বন্ধ করে না) মেকআপ ব্যবহার করা জরুরি।

মেকআপ করার পর অবশ্যই ডাবল ক্লিনজিং করুন। প্রথমে মেকআপ রিমুভার দিয়ে মেকআপ তুলুন, তারপর ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এতে ত্বকের পোরস পরিষ্কার থাকবে, এবং ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা কমবে।

একটি অভ্যাস যেটা বাধ্যতামূলক

ব্রণ নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হলো—ত্বককে বিশ্রাম দেওয়া। অতিরিক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার, বারবার মুখ ধোয়া, বা ব্রণ খোঁটাখুঁটি করা থেকে বিরত থাকুন। ত্বককে সময় দিন, এবং সঠিক স্কিনকেয়ার রুটিন মেনে চলুন।

সাধারণ প্রশ্ন

ব্রণে টুথপেস্ট দিলে কী হয়?

টুথপেস্টে থাকা উপাদানগুলো ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। এতে জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব, এমনকি র‍্যাশও হতে পারে। ব্রণ শুকাতে চাইলে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা নিয়াসিনামাইডযুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন।

ব্রণ কি বয়সের সাথে এমনিই যায়?

অনেকের ক্ষেত্রে ব্রণ বয়সের সাথে কমে যায়, কিন্তু সবার ক্ষেত্রে নয়। যদি ব্রণ দীর্ঘদিন ধরে থাকে বা খুব বেশি হয়, তাহলে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক চিকিৎসায় ব্রণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

মেকআপ করলে কি ব্রণ বাড়ে?

মেকআপ নিজে থেকে ব্রণ বাড়ায় না, যদি সঠিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন এবং সঠিকভাবে ক্লিন করেন। নন-কমেডোজেনিক মেকআপ ব্যবহার করুন, এবং মেকআপ করার পর অবশ্যই ডাবল ক্লিনজিং করুন।

Shop Related Products

View all products →