Skip to content
দ্রুত ডেলিভারি·COD·ঢাকায় পরের দিন·১০০% অথেনটিক

Sunscreen Guide

ব্রণের দাগ দূর করার উপায়: কী সত্যিই কাজ করে

ব্রণের দাগ নিয়ে কি আপনারও মন খারাপ হয়ে যায়? রোজ আয়নায় তাকিয়ে সেই লালচে বা কালো ছোপগুলো দেখে হতাশ লাগে, তাই না? বিশেষ করে যখন বিয়ের দাওয়াত, অফিস…

By Hasan Tarafder, Founder · Emart
·

ব্রণের দাগ নিয়ে কি আপনারও মন খারাপ হয়ে যায়? রোজ আয়নায় তাকিয়ে সেই লালচে বা কালো ছোপগুলো দেখে হতাশ লাগে, তাই না? বিশেষ করে যখন বিয়ের দাওয়াত, অফিস পার্টি বা বন্ধুদের আড্ডায় যাওয়ার আগে মেকআপ করেও দাগগুলো ঢাকা যায় না। আর যদি গর্তের মতো দাগ থাকে, তাহলে তো কথাই নেই—মনে হয় যেন স্কিনটাই আর আগের মতো মসৃণ নেই।

আসলে ব্রণের দাগ একটা জটিল ব্যাপার। একেকজনের স্কিনে একেক রকম প্রতিক্রিয়া হয়। কেউ কেউ ভাবেন, “আরেকটু সময় দিলেই ঠিক হয়ে যাবে”, আবার কেউ হাতুড়ে টোটকা বা দামি ক্রিমে হাজার টাকা খরচ করেও হতাশ হন। কিন্তু আসল কথা হলো, সঠিক যত্ন নিলে বেশিরভাগ দাগই হালকা করা সম্ভব। শুধু জানতে হবে কীভাবে। চলুন, আজকে সেই পথটাই খুঁজে বের করি।

ব্রণের দাগ আসলে কত রকমের হয়?

ব্রণের দাগ বলতে আমরা সাধারণত তিন ধরনের সমস্যা বুঝি:

  • লাল দাগ (Post-inflammatory Erythema বা PIE): ব্রণ সেরে যাওয়ার পর স্কিনে লালচে বা গোলাপি ছোপ থাকে। এগুলো আসলে রক্তনালীর প্রদাহের কারণে হয়। অনেক সময় এগুলো নিজে থেকেই মিলিয়ে যায়, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে মাসের পর মাস থেকে যায়।
  • কালো দাগ (Post-inflammatory Hyperpigmentation বা PIH): এগুলো মেলানিনের অতিরিক্ত উৎপাদনের ফলে হয়। ব্রণ সেরে গেলেও স্কিনের সেই জায়গায় কালো বা বাদামি ছোপ থেকে যায়। বাংলাদেশের মতো রোদ-গরমের দেশে এই দাগগুলো আরও গাঢ় হয়ে ওঠে।
  • গর্ত বা ডিপ্রেশন (Atrophic Scars): ব্রণের সময় স্কিনের নিচে কোলাজেন ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্কিনের উপরিভাগে গর্তের মতো দাগ পড়ে। এগুলো আইসপিক, বক্সকার বা রোলিং স্কার—এই তিন ধরনের হতে পারে। এই দাগগুলো দূর করা সবচেয়ে কঠিন এবং অনেক ক্ষেত্রে ডার্মাটোলজিস্টের সাহায্য লাগে।

কালো দাগের পেছনে মেলানিন যেভাবে কাজ করে

আপনার স্কিনের রং নির্ধারণ করে মেলানিন নামের একটা পিগমেন্ট। যখন ব্রণ হয়, তখন স্কিনের সেই অংশে প্রদাহ হয়। এই প্রদাহের প্রতিক্রিয়ায় স্কিনের মেলানোসাইট কোষগুলো অতিরিক্ত মেলানিন তৈরি করে। ফলে ব্রণ সেরে গেলেও সেই জায়গায় কালো দাগ থেকে যায়।

বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এই দাগগুলো আরও গাঢ় হওয়ার কারণ হলো রোদ। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি মেলানিন উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। তাই যদি আপনি সানস্ক্রিন না ব্যবহার করেন, তাহলে দাগ হালকা হওয়ার বদলে আরও গাঢ় হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যখন আপনি রিকশা বা বাসে করে অফিসে যান, তখন স্কিনে ধুলা-ময়লা আর রোদ দুই-ই লাগে। এতে দাগ দূর হওয়ার প্রক্রিয়া আরও ধীর হয়ে যায়।

যে উপাদানগুলো দাগ হালকা করতে সাহায্য করে

ব্রণের দাগ দূর করার জন্য কিছু উপাদান বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। এগুলো আপনার স্কিনকেয়ার রুটিনে যোগ করলে দাগ হালকা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। চলুন দেখে নেওয়া যাক কোন উপাদানগুলো কাজ করে:

  • নিয়াসিনামাইড (Niacinamide): এটি ভিটামিন বি৩-এর একটা ফর্ম। নিয়াসিনামাইড মেলানিনের উৎপাদন কমায়, স্কিনের টেক্সচার উন্নত করে এবং লালচে দাগ হালকা করতে সাহায্য করে। ৫% পর্যন্ত ঘনত্বের নিয়াসিনামাইড বেশিরভাগ স্কিনের জন্য নিরাপদ।
  • স্যালিসাইলিক অ্যাসিড (Salicylic Acid): এটি এক ধরনের বিটা হাইড্রক্সি অ্যাসিড (BHA)। স্যালিসাইলিক অ্যাসিড পোরস পরিষ্কার করে এবং স্কিনের উপরিভাগের মৃত কোষ দূর করে। ফলে দাগগুলো হালকা হতে শুরু করে। তবে বেশি ঘনত্বে ব্যবহার করলে স্কিন শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
  • ভিটামিন সি (Vitamin C): ভিটামিন সি একটা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি মেলানিনের উৎপাদন কমায় এবং কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে স্কিনের টেক্সচার উন্নত করে। তবে ভিটামিন সি আলোতে অস্থির, তাই রাতে ব্যবহার করাই ভালো।
  • আজেলেইক অ্যাসিড (Azelaic Acid): এটি মেলানিনের উৎপাদন কমায় এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ১০-২০% ঘনত্বের আজেলেইক অ্যাসিড ব্রণের দাগের জন্য খুবই কার্যকর।
  • রেটিনয়েড (Retinoids): রেটিনয়েড স্কিনের কোষ পুনর্নবীকরণ প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়। ফলে দাগগুলো দ্রুত হালকা হয়। তবে রেটিনয়েড ব্যবহার করলে স্কিন প্রথম দিকে শুষ্ক বা লালচে হয়ে যেতে পারে। তাই ধীরে ধীরে ব্যবহার শুরু করা উচিত।

এই উপাদানগুলো আপনি সিরাম, ক্রিম বা টোনার আকারে পাবেন। তবে মনে রাখবেন, একসাথে অনেকগুলো উপাদান ব্যবহার করবেন না। একটা-দুটো দিয়ে শুরু করুন এবং স্কিনের প্রতিক্রিয়া দেখুন।

সানস্ক্রিন ছাড়া দাগের যত্ন অসম্পূর্ণ কেন

আপনি হয়তো ভাবছেন, “আমি তো রোদে কম বের হই, তাহলে সানস্ক্রিনের কী দরকার?” কিন্তু সত্যিটা হলো, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি আপনার জানালার কাচ ভেদ করেও স্কিনে পৌঁছাতে পারে। আর যদি আপনি এসি অফিসে কাজ করেন, তাহলেও স্কিনের ক্ষতি হয়। কারণ এসি স্কিনের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়, আর রোদে বের হলে স্কিন আরও বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।

সানস্ক্রিন ব্রণের দাগের যত্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কারণ:

  • সূর্যের UV রশ্মি মেলানিন উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়, ফলে দাগগুলো আরও গাঢ় হয়।
  • অনেক দাগ দূর করার উপাদান (যেমন ভিটামিন সি, রেটিনয়েড) সূর্যের আলোতে অস্থির। তাই সানস্ক্রিন না ব্যবহার করলে এগুলোর কার্যকারিতা কমে যায়।
  • বাংলাদেশের মতো দেশে SPF 50 PA+++ সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। কারণ এখানকার রোদ খুবই তীব্র।

সানস্ক্রিন ব্যবহার না করলে আপনার বাকি সব স্কিনকেয়ার রুটিনই বৃথা যেতে পারে। তাই সকালে মুখ ধোয়ার পর ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পরই সানস্ক্রিন লাগান। আর যদি বাইরে যান, তাহলে প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পরপর সানস্ক্রিন রিঅ্যাপ্লাই করুন।

কতদিনে ফল আশা করতে পারেন

ব্রণের দাগ দূর হওয়ার প্রক্রিয়া একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। এটা নির্ভর করে দাগের ধরন, স্কিনের ধরন এবং আপনি কী ধরনের যত্ন নিচ্ছেন তার উপর। সাধারণত:

  • লাল দাগ: ৩-৬ মাসের মধ্যে হালকা হতে শুরু করে। নিয়মিত সানস্ক্রিন এবং নিয়াসিনামাইড ব্যবহার করলে দ্রুত ফল পাওয়া যায়।
  • কালো দাগ: ৬ মাস থেকে ১ বছর সময় লাগতে পারে। ভিটামিন সি, আজেলেইক অ্যাসিড বা নিয়াসিনামাইড ব্যবহার করলে দাগগুলো দ্রুত হালকা হয়।
  • গর্তের দাগ: এগুলো দূর করা সবচেয়ে কঠিন। ১-২ বছরের নিয়মিত যত্নে কিছুটা উন্নতি হয়, কিন্তু পুরোপুরি দূর করতে অনেক সময় ডার্মাটোলজিস্টের সাহায্য লাগে।

মনে রাখবেন, স্কিনকেয়ার একটা ধৈর্যের খেলা। আপনি যদি নিয়মিত যত্ন নেন, তাহলে ধীরে ধীরে উন্নতি দেখতে পাবেন। কিন্তু যদি আশা করেন যে ১ মাসেই সব দাগ চলে যাবে, তাহলে হতাশ হতে পারেন।

যা একেবারেই করবেন না

ব্রণের দাগ দূর করার চেষ্টায় অনেকেই এমন কিছু কাজ করে ফেলেন, যেগুলো আসলে স্কিনের ক্ষতি করে। এগুলো থেকে দূরে থাকুন:

  • ব্রণ খোঁটা বা চেপে বের করা: এতে স্কিনের নিচে প্রদাহ বেড়ে যায় এবং দাগ আরও গাঢ় হয়। এমনকি গর্তের মতো দাগও পড়তে পারে।
  • লেবু বা টুথপেস্ট লাগানো: লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড স্কিনের pH ভারসাম্য নষ্ট করে এবং স্কিনকে রোদের প্রতি আরও সংবেদনশীল করে তোলে। টুথপেস্টে থাকা কেমিক্যাল স্কিনে জ্বালাপোড়া করতে পারে।
  • অতিরিক্ত স্ক্রাব করা: স্ক্রাব করলে স্কিনের উপরিভাগের মৃত কোষ দূর হয়, কিন্তু অতিরিক্ত স্ক্রাব করলে স্কিনের বাধা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দাগ আরও গাঢ় হতে পারে।
  • সানস্ক্রিন এড়িয়ে যাওয়া: আগেই বলেছি, সানস্ক্রিন ছাড়া দাগের যত্ন অসম্পূর্ণ। তাই সানস্ক্রিন ব্যবহার না করলে দাগ হালকা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
  • অনেকগুলো নতুন প্রোডাক্ট একসাথে ব্যবহার: একসাথে অনেকগুলো নতুন প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে স্কিনের উপর চাপ পড়ে এবং ব্রেকআউট হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে একটা-দুটো প্রোডাক্ট যোগ করুন।

একটি অভ্যাস যেটা বাধ্যতামূলক: প্রতিদিন সকালে সানস্ক্রিন লাগানো, বাইরে যান বা না যান।

সাধারণ প্রশ্ন

ব্রণের দাগ কি একেবারে যায়?

বেশিরভাগ ব্রণের দাগ সময়ের সাথে সাথে হালকা হয়ে যায়, কিন্তু সব দাগ পুরোপুরি নাও যেতে পারে। বিশেষ করে গভীর গর্তের দাগের ক্ষেত্রে ডার্মাটোলজিস্টের সাহায্য নেওয়া উচিত। তবে নিয়মিত যত্ন নিলে দাগগুলো এতটাই হালকা হয়ে যায় যে মেকআপ ছাড়াই স্কিন মসৃণ দেখায়।

লেবু ঘষলে কি দাগ যায়?

লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড দাগ হালকা করতে পারে, কিন্তু এটি স্কিনের pH

Shop Related Products

View all products →